চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : সাতকানিয়ায় পাহাড়ি বাগানে কাজ করতে গিয়ে সাইফুল ইসলাম প্রকাশ ছৈয়দ নামে এক রোহিঙ্গা কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার চরতী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সুইপুরার পশ্চিম পাহাড় থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
নিহত ছৈয়দ টেকনাফের কুতুপালং বালুখালী ৮ নম্বর ক্যাম্পের আব্দুস সালামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ছৈয়দ সাতকানিয়া চরতীর সুইপুরার মাহমুদুল হক বাবুল নামে এক বাগানির বাড়িতে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সোমবার দুপুর ৩টার দিকে বাগান মালিকের ছেলে মো. মামুনকে (৩০) সঙ্গে নিয়ে বাগানে কাজ করতে যায়। বিকাল ৫টার দিকে হঠাৎ ২৫ থেকে ৩০টি হাতি তাদের আক্রমণ করে।
এ সময় মামুন পালিয়ে এসে বাড়িতে খবর দেয়। কিন্তু প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে বাড়ির লোকজন তাকে খুঁজতে যেতে পারেননি। মঙ্গলবার স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে পাহাড়ি এলাকায় তাকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, হাতির পাল শুঁড় দিয়ে আছড়ে মাটিতে পিষে তাকে মেরেছে।
বাগান মালিক মাহমুদুল হক বাবুল জানান, ছৈয়দ আমার বাড়িতে থেকেই লেবার হিসেবে কাজ করত। তাকে দিয়ে বাগানের আগাছা পরিষ্কারের কাজ করাতাম। সোমবার দুপুরে আমার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে সে বাগান দেখতে যায়। সেখানে হাতির দল বিকালে তাদের আক্রমণ করে। আমার ছেলে দৌড়ে পালিয়ে এলেও সে হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে পারেনি। রাত হয়ে যাওয়ায় এবং প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে তাকে উদ্ধারে যেতে পারিনি। পরদিন সকালে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে পাহাড় থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছি।
চরতী ইউপি চেয়ারম্যান ডা. রেজাউল করিম জানান, পাহাড়ে হাতির আক্রমণে নিহত এক রোহিঙ্গা কর্মচারীর লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনকে জানাই। তারা ঘটনাস্থল এসে পরিদর্শন করে।
সাতকানিয়া থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, চরতী ইউনিয়নে এক কৃষকের বাড়িতে ওই রোহিঙ্গা যুবক কাজ করত। সোমবার সন্ধ্যায় হাতির আক্রমণে তিনি মারা যান। লাশটি উদ্ধার করে আমরা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বাংলাদেশি নাগরিক না হওয়ায় তাকে সরকারি কোনো অনুদান কিংবা সহযোগিতার সুযোগ নেই।

