ঢাকাTuesday , 3 February 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাখি পুষে স্বচ্ছল

Link Copied!

Chuadanga-Birds-pics-4-03-02-15চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : শখের বশেই পাখি পালন শুরু করেছিলেন চুয়াডাঙ্গা শহরের মাস্টারপাড়ার লোটাস, কেদারগঞ্জ পাড়ার আলম, সাইদ, দৌলাতদিয়াড়ের সাইফুলসহ বেশ কয়েকজন যুবক। শুরুতে এরা সবাই ৪/৫ জোড়া করে কবুতর, বাজারিগার, ডায়মণ্ড ডোভ (বিদেশি ঘুঘু) কিনে এনে লালন পালন করে আসছিলেন। মাত্র ৪ বছরের ব্যবধানে এদের সবাই এখন রীতিমতো পাখির খামারি।
পরিবারের অন্য সদস্যরাও পাখির দেখাশোনা থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণে রাখছেন ভূমিকা। এক সময়ের সৌখিনতা এখন পরিবারের আয়ের মূল উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে চুয়াডাঙ্গার বেশ কয়েকজন বানিজ্যিক পাখি খামারি যুবকের।
শহরের মাস্টার পাড়ার লোটাস বছর পাঁচেক আগে মাত্র ৪ জোড়া কবুতর ছিল তার সম্বল, তাও আবার শখ করে পোষা। পাঁচ বছরের ব্যবধানে লোটাস এখন রীতিমতো প্রতিষ্ঠিত কবুতরের খামারি। নিজ বাড়ির একটি ফ্লাটের ৩টি রুমের সবকটি থরে থরে সাজানো কবুতরের খাঁচা। তার খামারে রয়েছে দুর্লভ জাতের হলুদ বোখারা, শাদা বোখারা, বিউটি হোমার, সিরাজি, প্লেজার থেকে শুরু করে অন্তত ২৫টি জাতের বাহারি কবুতর। বাড়ির গেইটের পাশেই খুলেছেন কবুতর বিক্রির দোকান।  নিম্ন ২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৮০ হাজার টাকা জোড়া মূল্যের কবুতর বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে এখানে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে পাখি প্রেমীরা ভিড় করেন লোটাসের কবুতরের দোকানে। তিনি জানালেন, নিয়ম মেনে লালন পালন করতে পারলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কবুতর চাষ করে স্বচ্ছলতার মুখ দেখা সম্ভব। প্রায় সব সময়ই তাকে ব্যস্ত থাকতে হয় কবুতরের খামার নিয়ে। কারণ এটিই যে আয়ের একমাত্র উৎস। Chuadanga-Birds-Pics-3কেদারগঞ্জ পাড়ার আলম। পাঁচ বছরে বৃহৎ পরিসরে দাঁড়িয়ে গেছে তার বিদেশি পাখির খামার। প্রথমে বিষয়টি শুধু ‘শখ’ হিসেবে নিলেও এখন এটাই তার জীবিকা। পাখির ছানা বিক্রি করে তিনি আয় করছেন বছরে দুই থেকে তিন লাখ টাকা। আর এ কাজে সহায়তা করছেন তাঁর স্ত্রী, বৃদ্ধ বাবা, ছোট ভাই সকলেই। আলমের খামারে বাজারিগার, ককাটিয়েল পাখির পাশাপাশি রয়েছে নানান জাতের কবুতর। আলমের স্ত্রী স্বপ্না জানালেন, প্রতিমাসে পাখি বিক্রি করে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় হয় তাদের। বাজারিগার, ককাটিয়েল জাতের বিদেশি এই পাখিগুলোর জন্ম, বংশবৃদ্ধি সবই খাঁচার মধ্যেই হয়ে থাকে।
পাখিদের মূলত দু’ভাগে ভাগ করা যায়। একটি ওয়াইল্ড বার্ড (বন্য পাখি), অন্যটি কেসবার্ড বা খাঁচার পাখি। ওয়াইল্ড বার্ড বা বন্য পাখি পালন করা/ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অপরদিকে কেসবার্ড বা খাঁচার পাখি হচ্ছে খাঁচায় পালন করার জন্য। এসব পাখি জন্ম-জন্মান্তর থেকে খাঁচায় বসবাস করছে। এই আইন ভালো করেই জানেন দৌলাতদিয়াড়ের পাখি ব্যবসায়ী ও খামারি সাইফুল ইসলাম।
সাইফুলের খামারে ৭৫ জোড়া ককাটিয়েল ছাড়াও ছিল ২১৫ জোড়া বাজারিগার। সম্প্রতি ২শ জোড়া বিক্রির পর রয়েছে ১৫ জোড়া বাজারিগার, ২৫ জোড়া স্প্যাঞ্জেল বাজারিগার, তিন জোড়া ব্যাংলিশ বাজারিগার, নয় জোড়া ডায়মন্ড ডোভ, ছয় জোড়া হোয়াইট জাভা ও তিন জোড়া লং টেইল পাখি। দেখতে সুন্দর হওয়ায় বাজারে ককাটিয়েলের চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি।
তিনি আরও জানান, পাখির খাবারের তালিকায় রয়েছে সরিষা, তিল, তিসি, কাউন, সূর্যমুখী ফুলের বীজ, পোলাওয়ের চালের ধান, চ্যানারি বীজ, কুসুম বীজ, চিনা ইত্যাদি। উপাদানগুলো বাজার থেকে আলাদাভাবে কিনে পরিমাণমতো মিশিয়ে দিতে হয়। এছাড়া প্রজননের পর কলমি শাক, ঘৃত কুমারি, বরবটি, গাজর, মসুর ডালের অঙ্কুরিত বীজ, ভুট্টা সিদ্ধ খেতে দিলে ভালো হয়। প্রতিটি পাখি দিনে গড়ে ৫০ গ্রাম খাবার খায়। এ হিসাবে প্রতি পাখির খাবারের জন্য দিনে মাত্র দুই টাকা ব্যয় হয়। খামার ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতি দুই মাসে সাইফুলের ব্যয় হয় প্রায় ২৫ হাজার টাকা। প্রথমে বিষয়টি শুধু ‘শখ’ হিসেবে নিলেও এখন এটাই তার জীবিকা। পাখির ছানা বিক্রি করে তিনি আয় করছেন বছরে দুই থেকে তিন লাখ টাকা। এই যুবক জানান, দেখতে সুন্দর হওয়ায় অনেকেই এসব পাখি বাসায় পালন করেন। বেশ ভালো দামে এগুলো বিক্রি করা যায়। এক জোড়া ককাটিয়েল (পুরুষ ও স্ত্রী পাখি) বিক্রি হয় দুই হাজার ৮শ থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া জাভা দেড় থেকে তিন হাজার, ডায়মন্ড ডোভ ৫শ থেকে দেড় হাজার ও বাজারিগার ৩শ থেকে ৪শ টাকা জোড়া বিক্রি হয়। Chuadanga-Birds-3চুয়াডাঙ্গার পাখির খামারিরা শুধু বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পাখি পালন নয়, বিভিন্ন প্রজাতির পাখির মধ্যে সংকরায়ণের মাধ্যমে নতুন জাত তৈরির চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন প্রত্যেকেই।
বিদেশি জাতের কবুতর, বিভিন্ন ধরণের পাখির খামার সম্পর্কে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম হায়দার জানালেন, এসব পাখি লালন পালন বা বাজারজাত করণে কোনো আইনি বাধা নেই। পোষা পাখির রোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরণের পরামর্শ তাদের দপ্তর থেকে দেয়া হয়ে থাকে বলেও জানালেন এই কর্মকর্তা।
বিশ্লেষকদের মতে, বেকারত্ব কৃত্রিম সমস্যা। চাকরির পেছনে না ছুটে বেকাররা উৎপাদনমুখী কাজে মনোযোগী হলেই বেকারত্ব সমাধান সম্ভব। দেশের বাজারে কৃষি ও কুটির শিল্প পণ্যের চাহিদা বাড়ছেই। এ অঞ্চলের বেকাররা অল্প পুঁজিতে পাখির খামার তৈরির এ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারে। এ ক্ষেত্রটিতে বেকারদের স্বাবলম্বী হওয়া তাদের নিজেদের হাতেই।