ঢাকাSaturday , 8 May 2021
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আশুলিয়ায় জাল দলিল করে জমি দখলের চেষ্টা করছে মিরপুরের ভূমিদস্যু সিটি শরীফ

Link Copied!

আশুলিয়া (সাভার) প্রতিনিধি : রাজধানীর পল্লবী এলাকার বাসিন্দা ও সিটি গ্রুপের এজেন্ট মো. শরিফুল ইসলাম শরীফের বিরুদ্ধে সাভারের আশুলিয়া থানাধীন আড়াগাঁও গ্রামের একটি জমির কাগজপত্র নকল করে অবৈধভাবে দখলে নেয়ার জন্য চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছুদিন আগে শরীফ তার নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ওই জমিতে বাউন্ডারি ওয়াল করতে গেলে এলাকাবাসীর বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে জমির মালিক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সাথে তার দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। তারা একে অপরকে ছেড়ে কথা বলছে না। তাই যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা করছে এলাকাবাসী। জমিটির এস এ খতিয়ান নং- ১৫০, আরএস- ৬০.২৫ নং দাগের মোট ১১.৫০ শতাংশ ভূমি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই জমিটি স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুর রহিমের। তার দুই সন্তান। এ দু’জন সন্তানের মধ্যে একজন অপরজনকে না জানিয়ে গোপনে অনেক জমি অন্যদের নিকট বিক্রি করে দেয়। সে কার জমি কোথায় বিক্রি করেছে তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই। এ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগে আছে। এর মধ্যে মিরপুরের মো. শরিফুল ইসলাম তার স্ত্রীসহ উল্লেখিত খতিয়ানের জায়গাটি ক্রয়কৃত দাবি করে সেখানে ঘর বাড়ি নির্মাণ করার জন্য ইট বালু নিয়ে যায়। এতে ওই জমির ওয়ারিশ মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ অত্র এলাকার প্রায় অধিকাংশ মানুষজন বাধা দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ এই জমি নিয়ে ভাইদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। ওই জমি এখনো ভাইবোনদের মধ্যে বাটোয়ারাই হয়নি। এর মধ্যে কেউ জমি বিক্রি করতে পারে না। এর মধ্যে শরীফ নামে এক ব্যক্তি ওই জমির ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জমি দখল করতে এসেছে। শরীফ এখানে এসে ঢাকা-১৬ আসনের এমপির নাম ভাঙিয়ে ভয় দেখায়। শরীফ বলেন, আমি এমপির জামাই। এলাকার বাসিন্দারা তাকে ইচ্ছামত বকেছে। তারা বলেছে, এখন সেই যুগ নেই যে সন্ত্রাসী কায়দায় সবকিছু দখল করা যাবে। শেখ হাসিনার আমলে সেটা সম্ভব না। পরবর্তীতে তারা মামলা করার জন্য থানায় গেলে থানা পুলিশ তদন্ত শেষে মামলা নেয়নি। এখনকার পুলিশ বাহিনী অনেক ভালো। অন্যায়কে কখনো প্রশ্রয় দেয় না। সে এমপি মন্ত্রী যেই হোক।
এ ব্যাপারে ৫নং আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. আব্দুল খালেক বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। কয়েকবার সমাধানের চেষ্টাও করেছি। এ এলাকায় জমি জমা নিয়ে অনেক ঝামেলা আছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এ বিষয়ে আইনগত যে সমাধান আসবে সেটাই আমার মতামত।
এ ব্যাপারে মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা মো. শরিফুল ইসলাম তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমার পৈত্রিক জায়গা অবৈধভাবে দখলে নেয়ার জন্য আসে। আমিসহ শত শত এলাকাবাসী তার এরকম অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা দিয়েছি। আমি যদি অন্যায় করতাম তাহলে শত শত লোক আমার পাশে থাকত না। তারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য থানায় গিয়েছিল। থানা পুলিশ তাদের কথা শুনেছে তবং তদন্ত শেষে মামলা নেয়নি। এরপরও তারা আমাকে হয়রানি করার জন্য তার স্ত্রীকে দিয়ে নারী নির্যাতনের মামলা দিয়ে চিরতরে জেলের ভাত খাওয়াবে বলে হুমকি দিচ্ছে। প্রায়দিন শরীফ আমাকে ফোন দিয়ে ঢাকা-১৬ আসনের এমপি, পুলিশের ডিসি, এসপি’র ভয় দেখায়।
আশুলিয়া থানার এসআই কায়সার হামিদ এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছেন। তিনি জানান, অভিযোগকারী গত ৩১/১২/২০২০ ইং তারিখে আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করার জন্য এসেছিল। আমি বিষয়টি তদন্ত করেছি। উভয় পক্ষকে কাগজপত্রসহ থানায় ডেকেছিলাম। কিন্তু অভিযোগকারীই শেষমেষ আসেনি। এ ব্যাপারে অভিযোগকারী মো. শরিফুল ইসলাম আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ ম্যাসেঞ্জারে পাঠিয়ে আমাদেরকে তদন্ত করতে বলেন। এরপর শরীফ আর যোগাযোগ করেনি। বারবার তাকে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।