নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)’র আওতাধীন রংপুর অঞ্চলে ভূউপরিস্থ পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের উদ্যোগে প্রকল্পভুক্ত এলাকায় ডুয়েল পাম্পিং সিস্টেম সোলার এলএলপি স্থাপনের ফলে অতিরিক্ত ১৩৫০ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, প্রকল্পের উদ্যোগে মোট ৩০টি ডুয়েল পাম্পিং সিস্টেম সোলার এলএলপি স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে রংপুর জেলায় ৪টি এবং নীলফামারী জেলায় ১টি সহ মোট ৫ টি ডুয়েল পাম্পিং সিস্টেম সোলার এলএলপি স্থাপন করা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থ বছরে রংপুরে ১৩টি ও নীলফামারীতে ২টি কার্যাদেশ প্রদান পূর্বক স্থাপন কাজ চলমান রয়েছে। নতুন করে রংপুর ও নীলফামারী জেলায় আরও ১০টি ডুয়েল পাম্পিং সোলার এলএলপি স্থাপনের দরপত্র আহবান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ডুয়েল পাম্পিং সোলার এলএলপি’র আওতায় ব্যারিড পাইপ নির্মাণের মাধ্যমে প্রায় ১০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে। প্রকল্পের আওতায় প্রকল্প এলাকায় মোট ৩০টি ডুয়েল পাম্পিং এলএলপি নির্মিত হলে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে; যার মাধ্যমে প্রকল্প এলাকায় প্রায় ১,৩৫০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপান করা সম্ভব হবে। এতে করে খাদ্যশস্য উৎপাদনের পাশাপাশি প্রকল্প এলাকার কৃষকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, ডুয়েল পাম্পিং সিস্টেম সেচ ব্যবস্থাপনায় একটি সম্পূর্ণ নতুন উদ্ভাবন। এ প্রযুক্তিতে একসেট সৌর প্যানেল দ্বারা পর্যায়ক্রমে দুই পানির উৎসের দু’টি পাম্প পরিচালিত হবে যার একটি ভার্টিক্যাল সারফেস পাম্প এবং অন্যটি সাব-মার্জড পাম্প। এতে নদীতে যতদিন পানি থাকবে ততদিন ভূ-পরিস্থ পানি ব্যবহারের জন্য সারফেস পাম্প চলবে এবং একেবারে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি তলানিতে চলে গেলে অটোমেটিক সিস্টেমে সাব-মার্জড পাম্প দ্বারা পানি উত্তোলন হবে। অর্থাৎ যখন ভূ-পরিস্থ পানি পর্যাপ্ত থাকবে তখন ব্যবহৃত হবে সারফেস পাম্প আর যখন ভূ-পরিস্থ পানি থাকবে না তখন ব্যবহৃত হবে সাব-মার্জড পাম্প। এতে ফসলি জমিতে নিরবচ্ছিন্ন সেচ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে যা ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে অভাবনীয় ভূমিকা পালন করবে।

