ঢাকাSaturday , 24 October 2020
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নাটোর বিআরটিএ অফিসে সক্রিয় দালালচক্র

Link Copied!

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোর বিআরটিএ অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারির যোগসাজসে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালাল চক্র। করোনা ভাইরাসের কারণে বেশ কয়েকমাস বন্ধ ছিল বিআরটিএর কার্যক্রম। সম্প্রতি কার্যক্রম শুরু হবার পরপরই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের স্থানীয় অফিসটি ফিরেছে পুরোনা চেহারায়। অফিসের ভেতরে এবং বাইরে দালাল চক্রের অপতৎপরতা প্রতিনিয়ত দেখা যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, করোনা সতর্কতায় কাউন্টারের মাধ্যমে সেবা গ্রহিতারা বাইরে থেকে কাগজপত্র জমা দিচ্ছে। কিন্তু সরকারি অফিসের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার গাড়ির ড্রাইভার নূরুল হক প্রবল প্রতাপে ভেতরে ঢুকে অন্যের লাইসেন্সের কাগজপত্র নিয়ে ব্যস্ত, তাও আবার নিজের অফিস ফাঁকি দিয়ে। এ নিয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে প্রতিবেদককে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত সটকে পড়েন তিনি। এরপর বিআরটিএ অফিস চত্বরে একাধিক লাইসেন্সের কাগজসহ দেখা মিলল দালালচক্রের অন্যতম সদস্য আলামিন হোসেনের। তার কাছে লাইসেন্সের এতো কাগজপত্র কেন প্রশ্ন করতেই তিনি জানান, নিজেদের লোকজনের কাজ করে দিচ্ছেন তিনি।
হালকা ও ভারী যানবাহনের জন্য সরকার নির্ধারিত লার্নার ফি ৩৪৫টাকা। এরপর ৫ বছর ও ১০ বছর মেয়াদি পেশাদার-অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য যথাক্রমে ১,৬৭৯ ও ২,৫৪২ টাকা জমা দিতে হয়। কিন্তু দালালচক্র লাইসেন্স প্রতি ০৮ থেকে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তবে দালালদের নিয়ে বিআরটিএর কর্মকর্তাদের মাঝে রয়েছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। একজন দালাল এ বিষয়ে স্বীকার করলেও আরেকজন অস্বীকার করছেন। মোটরযান পরিদর্শক নেসার আহমেদ জানান, বিআরটিএর বাইরে এবং ভেতরে কোনও দালাল নেই। দালাল বিষয়ে তথ্য প্রমাণের বিষয়টি তুলে ধরলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানাবেন।
নাটোর বিআরটিএ সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান জানান, অফিসটি দালাল মুক্ত করতে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা চান।
বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে একাধিক সেবাগ্রহিতা দালালচক্রের হাত থেকে মুক্তি চেয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, দালাল না ধরলে লাইসেন্স পেতে মাসের পর মাস ভোগান্তি পোহাতে হয়। অন্যদিকে গাড়ির লাইসেন্স না থাকলে জরিমানা গুণতে হয়। তাই দ্রুত লাইসেন্স পেতে দালাল না ধরে উপায় থাকে না।
জনগণের ভোগান্তি দুর করতে বিআরটিএ অফিসের অনিয়ম দুর্নীতি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেবার কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল আহমেদ। তারা বলেন, বিআরটিএ অফিসে নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। এর আাগে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে বিআরটিএ অফিস দালাল মুক্ত হয়েছিল। করোনা ভাইরাসের কারণে কয়েকমাস অফিসটি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি কার্যক্রম শুরু হবার পর দালালচক্র আবার মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিআরটিএ অফিল দালালমুক্ত করা হবে।