ঢাকাThursday , 8 October 2020
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বৃহত্তর বগুড়া ও দিনাজপুর জেলা ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন প্রকল্পের সফলতা
ফসলি জমিতে নিরবচ্ছিন্ন সেচের লক্ষ্যে বিএডিসি’র ডুয়েল পাম্পিং সিস্টেম

Link Copied!

প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত ০.৫ কিউসেক সোলার এলএলপি এবং সংযোজিত ডুয়েল পাম্প ও কন্ট্রোল সিস্টেম।

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফসলি জমিতে নিরবচ্ছিন্ন সেচ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সৌরশক্তিচালিত ডুয়েল পাম্পিং সিস্টেম চালু করেছে। সংস্থাটির আওতাধীন বৃহত্তর বগুড়া ও দিনাজপুর জেলা ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগে প্রকল্প এলাকায় সম্প্রতি ডুয়েল পাম্প সংযোজন করে সেচ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ প্রযুক্তিতে সেচ ব্যবস্থাপনায় শুষ্ক মৌসুমে উৎসের পানি (ভূ-পরিস্থ) তলানিতে গেলেও স্বংক্রিয়ভাবে সাব-মার্জড পাম্প চালু হবে এবং ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম চালু থাকবে; ফলে ফসলি জমিতে নিরবচ্ছিন্ন সেচ দেয়া সম্ভব হবে। উদ্ভাবনী এ সেচ ব্যবস্থাপনা দেশের কৃষিখাতের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প সূত্র জানায়, ডুয়েল পাম্প সংযোজন সেচ ব্যবস্থাপনায় একটি সম্পূর্ণ নতুন ধারণা এবং এটি বৃহত্তর বগুড়া ও দিনাজপুর জেলা ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন প্রকল্পের একটি উদ্ভাবন। এ প্রযুক্তিতে একসেট সৌর প্যানেল দ্বারা চলবে পর্যায়ক্রমে দুই পানির সোর্সের দু’টি পাম্প। এ লক্ষ্যে এক স্থানে স্থাপন করা হয়েছে ভার্টিক্যাল সারফেস পাম্প এবং সাব-মার্জড পাম্প। এতে নদীতে যতদিন পানি থাকবে ততদিন ভূ-পরিস্থ পানি ব্যবহারের জন্য সারফেস পাম্প চলবে এবং একেবারে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি তলানিতে চলে গেলে অটোমেটিক সিস্টেমে সাব-মার্জড পাম্প দ্বারা পানি উত্তোলন হবে। অর্থাৎ যখন ভূ-পরিস্থ পানি পর্যাপ্ত থাকবে তখন ব্যবহৃত হবে সারফেস পাম্প আর যখন ভূ-পরিস্থ পানি থাকবে না তখন ব্যবহৃত হবে সাব-মার্জড পাম্প। এতে ফসলি জমিতে নিরবচ্ছিন্ন সেচ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির এই সেচ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী এস এম শহীদুল আলম। তিনি বলেন, আমরা কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে একযোগে কাজ করছি। তিনি আরো বলেন, সৌরশক্তিচালিত পাম্পগুলো পরিচালনার জন্য দু’টি পদ্ধতি সংযোজন করা হয়েছে। একটি সরাসরি সরজমিনে উপস্থিত হয়ে পাম্প পরিচালনা এবং আর একটি রিমোট সিস্টেম সেন্সরের মাধ্যমে পরিচালনা করা। সিস্টেমে লগ ইন করে রিমোট সিস্টেম সেন্সরের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোন স্থান হতে পাম্পটি পরিচালনার পাশাপাশি সোলার ও পাম্প পরিচালনা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পাওয়া সম্ভব বলেও জানান তিনি।
সূত্র জানায়, প্যারিস চুক্তি অনুসারে, ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। এতে অদূর ভবিষ্যতে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক সেচযন্ত্র এবং জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দ্বারা পরিচালিত সেচযন্ত্রসমূহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দ্বারা পরিচালিত সেচযন্ত্র কৃষি খাতে এনে দিতে পারে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বৃহত্তর বগুড়া ও দিনাজপুর জেলা ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০টি ০.৫ কিউসেক সোলার এলএলপি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল। সৌরশক্তি ব্যবহার করে নদী থেকে সেচ দেয়া ভূ-পরিস্থ পানি ব্যবহারের উত্তম উপায়। এ লক্ষ্যে এ অঙ্গটি বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প এলাকায় পর্যবেক্ষণ করা হয়। ভূ-পরিস্থ পানি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নদ-নদী, খাল-নালা, বিলে অবস্থান করে অর্থাৎ বর্ষা মৌসুম (জুন-সেপ্টেম্বর) এবং পরবর্তী সময়ে সাগর মহাসাগরে পতিত হয়। ফলে ভূ-পরিস্থ পানি সারা বছর সব জায়গায় কৃষি ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি প্রায় তলানিতে চলে যায়; এতে এলএলপি চালনা সম্ভব হয় না। তখন সোলার স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকবে এবং জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হবে না; এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ সমস্যার সমাধানের জন্য এবং সৌরশক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে প্রকল্পে সোলার এলএলপি-তে ডুয়েল সিস্টেম পাম্প সংযোজনের নতুন একটি ‘ধারণা’ মাথায় আসে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের। বিষয়টি নিয়ে বিএডিসি’র শীর্ষ পর্যায়সহ বিভিন্ন মহলে আলাপ-আলোচনার পর তাদের পরামর্শে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত রহিম আফরোজ রিনিউয়েবল এনার্জি নামক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রকল্প এলাকার ৮টি স্থানে ডুয়েল পাম্পিং সিস্টেমযুক্ত সোলার পাম্প এবং ২টি স্থানে সৌরশক্তি সম্পন্ন ডাগওয়েল স্থাপনের কাজ চলতি বছরের জুন মাসে সম্পন্ন করা হয়। এ প্রযুক্তিতে সৌরশক্তির একটি সাধারণ মডিউল স্থাপন করা হয় যা লম্বায় এক মিটার ও চওড়ায় ১.৬৫ মিটার। সৌরশক্তির এক সারি মডিউল স্থাপন করে দুই সারির মাঝখানে জায়গা ফাঁকা রাখা হয়েছে, অর্থাৎ এক সারি মডিউল বসানোর পর জায়গা ফাঁকা রেখে আবার এক সারি মডিউল বসানো হয়েছে। এর ফলে মাঠের ফসল পর্যাপ্ত আলো পাবে এবং মডিউল স্থাপনে ব্যবহৃত জমির ফসল উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে ৭০ শতাংশ অক্ষুন্ন থাকবে। এছাড়া কৃষিবান্ধব সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি ইঞ্চি জমিতে ফসল ফলানোর জন্য উক্ত জমির মালিকদের বিভিন্ন ধরণের সবজি চাষের জন্য উদ্ভুদ্ধ করে প্রণোদনা হিসেবে বিএডিসি’র বিভিন্ন জাতের সবজি বীজ প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্রমতে, কৃষি প্রধান বাংলাদেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বিএডিসি’র অবদান অপরিসীম। ফসল উৎপাদনে সেচ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। এ বিষয়টি অগ্রগণ্য ধরে ভূ-গর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষা, ভূ-পরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদার যোগান দেয়া, কৃষিতে আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার করে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ও সংযোজনের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিএডিসি অঞ্চলভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী ভূ-পরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএডিসি বৃহত্তর বগুড়া ও দিনাজপুর জেলা ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পটি ৮৯.৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় ৪ বছর মেয়াদে বাস্তবায়ন হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। প্রকল্পের শুরু থেকে জুন-২০২০ পর্যন্ত ১৯৫ কি. মি. খাল/নালা পুনঃখনন/সংস্কার, ৫০টি বিভিন্ন ক্ষমতার নতুন সেচযন্ত্র (৫, ২ ও ১ কিউসেক) ক্ষেত্রায়ন, ১০টি ০.৫ কিউসেক ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর শক্তিচালিত এলএলএপি স্থাপন, ১২১ কি. মি. ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণ, ১৪৩টি বিভিন্ন আকারের হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার নির্মাণ, ৪২০ জন কৃষক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকায় ভূ-উপরিস্থ পানির সাহায্যে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ খরচ হ্রাস, পতিত জমি সেচের আওতায় আনা, জলাবদ্ধতা হ্রাস, কৃষকের বার্ষিক আয় বৃদ্ধি ও পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে যা দারিদ্র্য বিমোচনে প্রকল্পের কার্যক্রম ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। এছাড়া পুনঃখননকৃত খালে হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার নির্মাণের ফলে খালে পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করায় পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়ায় উৎপাদিত শস্য সহজেই পারাপার, কৃষি উপকরণ মাঠে আনা নেয়া সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া, প্রকল্প এলাকায় খাল/নালা খনন/পুনঃখননের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি নির্ভর সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশন তরান্বিতকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে সেচ অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক সেচ প্রযুক্তি প্রয়োগ করে ১৮৩৪৩.১০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৮২৫৪৩.৯৫ মে. টন অতিরিক্তি খাদ্য শস্য উৎপাদন সম্ভব হবে যা প্রকল্প এলাকায় কৃষকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ দেশের কৃষি খাতের অগ্রগতিতে ব্যাপক অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।