
রাজধানীর আদাবর কাঁচা বাজারের কাছে বিধিবহির্ভূতভাবে ১০ তলা এ ভবনটি নির্মাণ করেছে এস বিল্ডার্স।
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর আদাবর কাঁচা বাজারের কাছে বাড়িটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। বছর দুয়েক আগে হোল্ডিং নম্বর ২৯ উত্তর আদাবরে ১০ তলা বিশিষ্ট ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্মাণ তদারকি সংস্থা রাজউকের গাফিলতি থাকায় সেখানে ঐ হোল্ডিংয়ে ইমারত নির্মাণ বিধি না মেনে বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজউকের নীরবতা থাকায় ইমারত বিধিমালা না মেনে এস বিল্ডার্স নামে প্রতিষ্ঠানটি ১০ তলা ভবন গড়ে তুলেছে। মাঠপর্যায়ে রাজউকের পরিদর্শক থাকলেও ঠিকমতো নির্মাণকাজ মনিটরিং না হওয়ার সুযোগ নিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুজিবুর রহমান ও তার ভাই-বোনেরা এ প্লটটির মালিক। ৭ কাঠা জমিটি তারা নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এস বিল্ডার্সকে দেন। কিন্তু এস বিল্ডার্স তার ব্যবসায়িক চিন্তা মাথায় রেখে ভবন নির্মাণের সময় কোনো জায়গা ছাড়েনি। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-১৯৯৬ অনুযায়ী নিকটবর্তী রাস্তা থেকে ভবনের দূরত্ব হতে হবে ৪ দশমিক ৫ মিটার। সীমানা সংলগ্ন রাস্তা থেকে ভবনের দূরত্ব হতে হবে ১ দশমিক ৫ মিটার বা পাঁচ ফুট। এক্ষেত্রে ১০ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের বেলায় নিয়ম মানা হয়নি। বিধি অনুযায়ী ভবনের প্রাচীর ১ দশমিক ৭৫ মিটার রাখার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। এছাড়া ভবনের দুই পাশে ও পেছনে মাত্র এক ফুট করে জায়গা ছাড়া হয়েছে।
নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী ৭ কাঠা জায়গাতে সামনে দেড় মিটার, পেছনে দুই মিটার ও পাশে ১ দশমিক ২৫ মিটার জায়গা খালি রাখার কথা। বিধি অনুযায়ী সেট ব্যাকের মধ্যে ব্যালকনি করা যাবে না উল্লেখ থাকলেও ঐ ভবনে সেট ব্যাকের মধ্যে ব্যালকনি করা হয়েছে। এছাড়া বিম থেকে ডেভিয়েশন বাড়ানো হয়েছে অন্তত পাঁচ ফুট। মোট কথা ভবন নির্মাণে প্রতি ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবন নির্মাণের কাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। এরইমধ্যে গ্যারেজের কাজ শেষ হয়েছে। শেষ হয়েছে গ্রিল বসানোর কাজও।
বিধিমালা না মেনে ভবন নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে প্লট মালিকদের একজন মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ডেভেলপারকে প্লটটি দিয়েছি। বিধিমালা মেনে তারা ভবন নির্মাণ করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কীভাবে কোম্পানি ভবন নির্মাণ করলো তা আমরা জানতে চাইব।’
বাড়ির মালিক বলেন, ‘কোম্পানির সঙ্গে কথা বলব। তারা কী বলে সেটা জানতে চাইব।’ এরপর একাধিকবার মুজিবুর রহমানকে কল দেওয়া হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
রাজধানীর জিগাতলায় কোম্পানির অফিসে গেলেও সেখানে কেউ কথা বলতে চাননি। এমনকি কোম্পানির কর্ণধারদের কেউ দেখা দেননি।
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে এস বিল্ডার্সের হিসাব শাখার কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরকে ফোন দেওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমি এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। কোনো তথ্য আপনাকে দিতে পারব না। যা ইচ্ছা আপনারা করতে পারেন।’
কোম্পানির কর্ণধার আবুল খায়ের টিটনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের কোনো সহযোগিতা করেননি।
হুমায়ুন কবিরের কাছে কোম্পানির এমডি কিংবা চেয়ারম্যানের মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি বলেন, ‘মোবাইল নম্বর দেওয়া যাবে না। কোম্পানির কেউই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি নন। আপনারা চাইলে নিউজ করতে পারেন।’
হুমায়ুন কবিরের দাবি, জেনে শুনেই এস বিল্ডার্স ভবনটি নির্মাণ করেছে। সুতরাং সাংবাদিকরা চাইলে যা ইচ্ছা লিখতে পারে।
বিধিমালা না মেনে ভবন কীভাবে গড়ে উঠলো? জানতে চাইলে রাজউক জোন-৩ এর পরিদর্শক মো. সেলিম বলেন, ‘আমি এই এরিয়াতে নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। ঐ ভবনটির বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব। সরেজমিনে গিয়ে আমি পরিস্থিতি দেখে আসব।’
বিধিমালা না মেনে কেউ ভবন করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে রাজউকের ঐ পরিদর্শক উল্লেখ করেন।
বিধি না মেনে ইমারত নির্মাণের বিষয়ে জানতে রাজউকের জোন-৩ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত অথরাইজড অফিসার মোহাম্মদ নুর আলমকে ফোন দেওয়া হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

