ঢাকাWednesday , 26 August 2020
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএডিসি’র ভ্রাম্যমাণ সোলার সেচ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে রংপুরে তিস্তার চরাঞ্চলে কৃষকের মুখে হাসি

Link Copied!

বিএডিসি (রংপুর)’র উদ্যোগে নৌকায় স্থাপিত সৌরশক্তিচালিত এলএলপি’র মাধ্যমে সেচ প্রদান।

রংপুর অঞ্চলে ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের সফলতা

নিজস্ব প্রতিনিধি : রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার তালুক শাহাবাজপুর ও ডুসমারা চরে ভ্রাম্যমাণ সোলার সেচ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ফলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)’র আওতাধীন রংপুর অঞ্চলে ভূউপরিস্থ পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের উদ্যোগে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি ব্যবহার করে ভূউপরিস্থ পানি দিয়ে এ সেচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিএডিসি’র এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তিকে চর অঞ্চলের আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন এই এলাকার কৃষকরা।
সূত্র জানায়, তালুক শাহাবাজপুর ও ডুসমারা রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা নদীর দু’টি চর। চরগুলো মূলত রিভারবেড হিসেবে পরিচিত এবং বছরের ছয় মাস (জুন থেকে নভেম্বর ) পানিতে নিমজ্জিত থাকে। এই দুই চরের প্রায় ১,৮০০ হেক্টর ধুধু বালিময় জমিতে শুকনো মৌসুমে কৃষকরা প্রচুর পরিমাণে পেয়াজ, রসুন, ভুট্টা, গম, মিষ্টি কুমড়া, তিল, তিশি, বাদাম, তরমুজ, স্কোয়াশ ও শাক-সবজি উৎপাদন করেন। তবে পূর্বে এ জমিতে সেচ দিয়ে ফসল ফলাতে কৃষকদের যথেষ্ট কষ্ট করতে হতো, কেননা তখন এখানে সেচের কোন ব্যবস্থা ছিলো না। তিস্তা নদী থেকে বালতি অথবা কলসি দিয়ে পানি নিয়ে অথবা ডিজেল চালিত শ্যালো টিউবওয়েল দিয়ে পানি তুলে তা গর্তে মজুদ রেখে সেখান থেকে ভারে করে চরের জমিতে সেচ দিতে হতো। এতে কৃষক/কৃষাণি দের কায়িক শ্রম ও ভোগান্তির পাশাপাশি অনেক টাকাও ব্যয় হতো, কেননা বালু মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা কম হওয়ায় বারবার সেচ দিতে হয়। তিস্তা চরের কৃষকদের এই কষ্টের ইতি টানতে বিএডিসি সম্প্রতি রংপুর অঞ্চলে ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি ব্যবহার করে ভূউপরিস্থ পানি দিয়ে সেচের ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া চর সংলগ্ন তিস্তা নদীতে নৌকায় স্থাপিত ভ্রাম্যমাণ সোলার লো-লিফট পাম্পের সাহায্যে পানি উত্তোলন করে চরাঞ্চলে পোর্টেবল ফিতা পাইপ ও এইচডিপি পাইপের মাধ্যমে আধুনিক, মানসম্মত ও সহজ উপায়ে সেচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নও ত্বরান্তিত হচ্ছে।
বিএডিসি সূত্র জানায়, রংপুর অঞ্চলে ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প কর্তৃক নৌকায় স্থাপিত ০.৫-কিউসেক সৌরশক্তি চালিত লো-লিফট পাম্প দ্বারা ভ্রাম্যমাণ সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে রংপুরের তালুক শাহবাজ চরের প্রায় ৫০ হেক্টর জমি চাষের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। নৌকায় স্থাপিত এ সৌরশক্তি চালিত পাম্পের সাহায্যে সরাসরি নদীর ভূউপরিস্থ পানি উত্তোলন করে পুরো এলাকা ঘুরে ঘুরে প্রয়োজনীয় পানি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে বিএডিসি; যা ইতোমধ্যে ঐ এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এতে পূর্বে যেখানে একর প্রতি ফসল উৎপাদনে ন্যূনতম ৮ হাজার টাকা খরচ হতো, সেখানে বর্তমানে খরচ হচ্ছে মাত্র ১ হাজার টাকা।

কাউনিয়া উপজেলার ডুসমারা চরে ডাগওয়েলে স্থাপিত সোলার এলএলপি’র মাধ্যমে আলু ক্ষেতে সেচ প্রদান।

এছাড়া অন্য আরেকটি চর ডুসমারায় সোলার চালিত ডাগওয়েলের মাধ্যমে ১০ হেক্টর জমিতে স্বল্প খরচ ও শ্রমে সেচ প্রদান করা হচ্ছে। ডাগওয়েলের মাধ্যমে সেচ প্রদানসহ ফসল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ পর্যন্ত নারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণের ফলে চরাঞ্চলের নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। চর দু’টিতে উৎপাদিত আলু, মিষ্টিকুমড়া, পিঁয়াজ, মরিচ, শসা, বাদাম, মূলা, রসুন, ভুট্টা, স্কোয়াশ ইত্যাদি ফসল স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। বিএডিসি’র এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তিকে চর অঞ্চলের আশীর্বাদ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকরা। তাই অন্যান্য চর এলাকায় এরূপ সোলারচালিত সেচ পাম্প স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলেন, সেচ কার্যক্রমটি বাস্তবায়নের ফলে ধুধু বালু চরের পতিত জমিতে ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এতে করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা ‘এক ইঞ্চি জমিও যেন পতিত না থাকে’ তা বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তারা।