ঢাকাWednesday , 29 July 2020
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএডিসি’র সেচচার্জ হ্রাসে সুফল পাচ্ছে কৃষক

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : মুজিববর্ষ ও করোনা মহামারির কারণে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)’র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভাড়াভিত্তিক পরিচালিত সেচযন্ত্রসমূহের সেচচার্জ ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। সরকারের সময়োপযোগী এ সিদ্ধান্তে সারাদেশের কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন এবং ফসল উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির ক্ষুদ্র সেচ উইং এর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত সেচযন্ত্রসমূহ পর্ষদ সভা কর্তৃক অনুমোদিত একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে মাঠ পর্যায়ে পরিচালিত হয়ে থাকে যা‘সেচযন্ত্র পরিচালনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ নীতিমালা’ হিসেবে পরিচিত। সংশ্লিষ্টরা জানান, ফসলের সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় সেচ ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা মোট উৎপাদন খরচের প্রায় ৩০-৩২%। তাই সেচ ব্যবস্থাপনার সেচচার্জ হ্রাস, উৎপাদন খরচ হ্রাসে বিরাট ভূমিকা রাখে। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস-এর প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব স্থবির হয়ে পরেছে এবং তা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে সারাবিশ্বের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং সকল উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা প্রতিপালনে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কোনো আবাদি জমি পতিত না রেখে প্রতি ইঞ্চি জমিতে আধুনিক প্রযুক্তির কলাকৌশল অবলম্বন করে ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির তাগিদ রয়েছে। সে আলোকে করোনা মহামারিতে সৃষ্ট দুর্যোগে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক, এমপি’র নির্দেশনায় করোনা মহামারি এবং মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বিএডিসি’র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভাড়াভিত্তিক পরিচালিত সেচযন্ত্রসমূহের সেচচার্জ ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। বিএডিসি’র চলমান প্রকল্পের আওতাধীন সেচযন্ত্রসমূহের ভাড়া উক্ত প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী আদায়যোগ্য হবে। এছাড়াও বিএডিসি’র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ঘণ্টাভিত্তিক পরিচালিত সেচযন্ত্রসমূহের সেচচার্জ আদায়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত নীতিমালা চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিএডিসি’র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত সেচযন্ত্রের সেচচার্জ হ্রাস অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ সেচচার্জ হ্রাস সরকারি পর্যায়ে কৃষকদের সেচ প্রণোদনা কার্যক্রম; এতে কৃষকদের সেচ খরচ হ্রাসের পাশাপাশি সেচ সম্প্রসারণ এবং ফসলের উৎপাদনশীলতায় বিরাট অবদান রাখবে।
জানা গেছে, কৃষকদের নিকট কৃষি উপকরণের সহজ প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ এবং দেশের সেচ এলাকা সম্প্রসারণের কাজ তরান্বিত করার জন্য তদানিন্তন সরকার ১৯৫৯ সালে ১৬ জুলাই খাদ্য ও কৃষি কমিশন গঠন করে। এ কমিশন দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণের নিমিত্ত কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং কৃষি উপকরণ কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করে। যা বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) নামে অবহিত।
কৃষি প্রধান বাংলাদেশে খাদ্যের স্বয়ম্ভরতা অর্জনে বিএডিসি’র ভূমিকা অপরিসীম। এ ক্ষেত্রে সেচ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সেচ সম্প্রসারণ এর লক্ষ্যে তৎকালীন সরকার ১৯৬১ সালে ভাড়াচালিত মাত্র ১,৫৫৫ টি শক্তিচালিত পাম্প স্থাপনের মাধ্যমে ভূপরিস্থ পানির সাহায্যে দেশে আধুনিক প্রযুক্তির সেচ ব্যবস্থার প্রচলন ঘটায়। যার ফলশ্রুতিতে শক্তিচালিত পাম্পের মাধ্যমে ভূপরিস্থ পানির ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। আধুনিক সেচ ব্যবস্থাকে আরো সম্প্রসারণের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৬৭-৬৮ সালে দেশে প্রথমবারের মত গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কার্যক্রম শুরু হয়, যা শক্তিচালিত পাম্পের মত ভাড়া পদ্ধতিতে সারা দেশে পরিচালিত হয়।
স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের পুনর্গঠনসহ ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষ দূরীকরণের লক্ষ্যে কৃষিক্ষেত্রে ‘সবুজ বিপ্লব’ এর ডাক দেন। এ ডাকের অংশ হিসেবে ১৯৭৩-৭৪ অর্থ বছরে কৃষিক্ষেত্রে সেচ ব্যবস্থাপনায় ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কিস্তি ও নগদ মূল্যে অগভীর নলকূপ কৃষকদের মাঝে বিক্রির জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএডিসিকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। যার ফলশ্রুতিতে সারাদেশে সেচ কার্যক্রম বিস্তৃতি লাভ করে। ১৯৭৫ সালে পট পরিবর্তনের পর কৃষিতে বেসরকারিকরণের হাওয়া লাগে। বিশ্ব ব্যাংকের পরামর্শে সেচ ব্যবস্থাপনায় বেসরকারিকরণ কার্যক্রম শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৮-৭৯ অর্থ বছরে বিএডিসি’র মাধ্যমে স্থাপিত গভীর নলকূপ ভাড়া পদ্ধতির পরিবর্তে নগদ ও কিস্তিতে স্থাপনের মাধ্যমে বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮৭-৮৮ অর্থ বছরে কিছু সংখ্যক ভাসমান পাম্প ভাড়ায় পরিচালনার জন্য বিএডিসিকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯০-৯১ অর্থ বছরে বিএডিসির অগভীর নলকূপ সরবরাহ/বিক্রয়ের কার্যক্রম সরকারিভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৯৯২-৯৩ অর্থ বছরে ভাড়ায়চালিত গভীর নলকূপ এককালীন নগদ মূল্যে অথবা নির্দিষ্ট কিস্তিতে বিক্রি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, যা পরবর্তীতে আবার বন্ধ করা হয়। বর্তমানে শুধুমাত্র গভীর নলকূপ ও শক্তিচালিত পাম্পের কার্যক্রম বিএডিসির দায়িত্বে রয়েছে।