স্পোর্টস ডেস্ক : ক্রিকেটে বর্ণবাদ বহু আগের থেকে চলে আসছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব চোখে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে। শুধু বর্ণবাদ প্রথার জন্য ক্রিকেট থেকে নিষেধও ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রোটিয়া ক্রিকেটকে ঘিরে তেমন বর্ণবাদ ইস্যু সামনে আসছিল না। তবে তাই বলে প্রোটিয়া ক্রিকেটের অভ্যন্তরে বন্ধ ছিল না বর্ণবৈষম্য।
এবার তেমনই তথ্য জানালেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি পেসার মাখায়া এনটিনি। দলের মধ্যে বর্ণবিদ্বেষী আচরণের শিকার হয়েছিলেন তিনি, এমন বিস্ফোরক তথ্য সামনে নিয়ে এলেন এনটিনি। ১৩ বছরের ক্যারিয়ারজুড়ে সতীর্থদের নানান অবহেলা ও বিরূপ আচরণ সহ্য করে গেছেন তিনি।
প্রোটিয়া ক্রিকেট ইতিহাসে এনটিনির ক্যারিয়ার সাফল্যমণ্ডিত। প্রোটিয়া জার্সি গায়ে খেলেছিলেন ১০১ টেস্ট, ১৭৩ ওয়ানডে এবং ১০ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। উইকেট শিকারেও ছিলেন দারুণ সফল, টেস্টে ৩৯০, ওয়ানডেতে ২৬৬ ও টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেট শিকার তারই প্রমাণ।
সেই এনটিনি দক্ষিণ আফ্রিকান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের সঙ্গে আলাপে জানিয়েছেন, খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি ছিলেন খুবই একাকী। দলের কেউই তাকে কোন কিছুর জন্য ডাকতো না কিংবা কোন পরিকল্পনার অংশও বানাতো না। এমনকি খাবারের সময়ও একাকী খেতে হতো তাকে।
এনটিনির ভাষ্যে, ‘তখন একাকীত্ব ছিল আমার সবসময়ের সঙ্গী। কেউ আমাকে ডিনারের জন্য ডাকতো না। সতীর্থরা আমার সামনেই নানান পরিকল্পনা করতো কিন্তু আমাকে রাখতো না। এমনকি সকালে নাশতার টেবিলে যখন যেতাম, তখন কেউ আমার পাশে বসতো না।’
তবে নিজের এই নিঃসঙ্গতা কাউকে বুঝতে দিতেন না এনটিনি। টিম বাসে কেউ তার সঙ্গে বসতে চাইতো না বলে হোটেল থেকে মাঠে দৌড়ে যেতেন আর ফিরতেন। এ সময় টিম বাসের ড্রাইভারের কাছে দিয়ে দিতেন নিজের কিট ব্যাগ।
সফল এই প্রোটিয়ান বলেন, ‘আমি আসলে নিজের একাকীত্বের বিরুদ্ধে লড়ছিলাম। কারণ আমি যদি বাসের শেষে বসতাম, তাহলে তারা সবাই সামনের দিকে চলে যেতো। আর তাই আমি টিম বাসের ড্রাইভারের কাছে নিজের কিটের ব্যাগ দিয়ে দিতাম এবং দৌড়ে মাঠে যেতাম। ফিরতামও একইভাবে। কেউ জানত না আমি এমনটা কেন করতাম, কাউকে কখনও বুঝতে দেইনি বিষয়টা।’=
নিজে বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়েছেন, এখন ছেলের জীবনেও একই চিত্র। আক্ষেপ করে এনটিনি যোগ করেন, ‘আমরা একই জার্সি পরি, একই জাতীয় সঙ্গীত গাই, তবু আমাকে এসব সহ্য করতে হয়েছে। আমরা যখন জিততাম, তখন সবাই উল্লাস করতো। কিন্তু হেরে গেলেই সবার আগে আমাকে দোষ দেওয়া দেতো। আমার ছেলে থান্ডোও একই অবস্থায় পড়ে। সে জন্য থান্ডো অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাম্পে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিল।’

