ঢাকাMonday , 22 June 2020
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রঞ্জি ট্রফির ‘কিংবদন্তি’ রাজিন্দার গোয়েলের বিদায়

Link Copied!

স্পোর্টস ডেস্ক : ভারতের রঞ্জি ট্রফির কিংবদন্তি রাজিন্দার গোয়েল ৭৭ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি এই ক্রিকেটার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছিলেন। হরিয়ানার এ বাঁহাতি স্পিনারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি থেকে শুরু করে আরও অনেক সাবেক ক্রিকেটার। সৌরভ নিজের বার্তায় জানিয়েছেন, ভারত আজ ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে।
রাজিন্দার গোয়েলের ক্রিকেটীয় দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই কারো সামনে। কারণ ভারতের রঞ্জি ট্রফিতে গোয়েলের চেয়ে বেশি উইকেট নিতে পারেননি আর কোন বোলার। ১৯৫৮-৫৯ থেকে ১৯৮৪-৮৫ পর্যন্ত বিস্তৃত ক্যারিয়ারে শুধু রঞ্জি ট্রফিতেই তার শিকার ৬৩৭ উইকেট। যার বেশিরভাগই তিনি নিয়েছেন হরিয়ানার হয়ে। সবমিলিয়ে প্রায় ২৬ বছর ও ১৫৭ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে গোয়েলের উইকেটসংখ্যা ৭৫০। ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ৫৩ বার ও ম্যাচে দশ উইকেট শিকার ১৭ বার। ফিটনেস সচেতন এই ক্রিকেটার খেলে গেছেন ৪৩ বছর পর্যন্ত।
এতসব অর্জনের পরেও কখনও ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি এ রঞ্জি কিংবদন্তি স্পিনার। ভারতীয় দলে তাঁর সময়কালে স্পিনার হিসেবে খেলতেন আরেক বাঁহাতি বিষাণ সিং বেদি। যিনি পরবর্তীকালে অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেন। তবে বিষাণকে প্রায় প্রশ্ন করা হতো, ‘বিষাণ সিং বেদি কি গোয়েলের মতো ভালো?’ ভারতীয় ক্রিকেটে প্রচলিত এই প্রশ্নের উত্তরে হ্যাঁ-না তর্ক থাকতেই পারে। কারণ ঘরোয়া পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বিষাণ ঢের পিছিয়ে ছিলেন গোয়েলের থেকে। তবে আক্ষেপ নিয়েই ক্রিকেট ছাড়তে হয়েছে গোয়েলকে। পারফরম্যান্সও জাতীয় দলের টিকিট এনে দিতে পারেননি তাকে।
গোয়েল ভারতীয় জাতীয় দলের সবচেয়ে কাছাকাছি এসেছিলেন ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে। সেবার সিলন (বর্তমান শ্রীলঙ্কা) দলের বিপক্ষে একটি আনঅফিশিয়াল টেস্ট খেলেন গোয়েল। এছাড়া ১৯৭৯ সালে কিম হিউজের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে ৬ উইকেট শিকার করেন গোয়েল।
জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ার মতো আরেক আক্ষেপ আছে গোয়েলের। খেলোয়াড় হিসেবে রঞ্জি ট্রফির কিংবদন্তি স্পিনার হলেও, কখনও এ টুর্নামেন্টের শিরোপা জিততে পারেননি তিনি। যদিও পরে ১৯৯১ সালে চ্যাম্পিয়ন হরিয়ানা দলের নির্বাচক কমিটির প্রধান ছিলেন গোয়েল। ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে পুরুষ ও নারী ক্রিকেটের ম্যাচ রেফারির দায়িত্বও পালন করেছেন এই কিংবদন্তি।
ভারতের হয়ে টেস্ট না খেলেও দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের তরফ থেকে সিকে নাইড়ু আজীবন সম্মাননা পুরষ্কার পেয়েছেন মোট চারজন। রাজিন্দর গোয়েল তারমধ্যে অন্যতম। ২০১৭ সালে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাকে এই আজীবন সম্মাননা পুরষ্কার দেন।
ক্যারিয়ারজুড়ে মাঠের ক্রিকেটে যুদ্ধ করে গেছেন। কীর্তি গড়েছেন অনেক। কিন্তু শিরোপার আক্ষেপ, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে না তোলার আক্ষেপ তাকে সবসময় পাদপ্রদীপের আড়ালে রেখেছে। বিদায়ও নিলেন হঠাৎ করেই নীরবে-নিভৃতে। হয়ত একঝাঁক আক্ষেপকে সঙ্গী করেই।