নাটোর সংবাদদাতা : চলন বিলে খেঁজুর রসে দানাদার (বিষ) মিশিয়ে পাখি শিকার করা হচ্ছে। এভাবে শিকারকৃত পাখির মাংস প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষ খাচ্ছে।
চলন বিলের কলম ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক হারুন-অর রশিদ জানান, বিলে পানি কমতে শুরু করায় ছোট ছোট মাছ শিকার করতে অতিথিসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ভিড় জমায়। সেই সব পাখি খেঁজুর গাছের রসের হাড়িতে বসে এবং রস খায়। বিষ মিশ্রিত রস খেয়ে পাখি ঝিমাতে থাকে। সেই পাখি আর উড়তে পারে না। শিকারিরা পাখি ধরে জবাই করে।
তিনি জানান, শুধু দিনে রসে হাড়িতে বিষ দেয়া হয়। সন্ধ্যার সময় সেই রস ফেলে দিয়ে পুনরায় হাড়ি গাছে টানানো হয়।
সোমবার সকালে সিংড়ার চলন বিলের কৃষ্ণপুরের আত্রাই নদীর বাঁধে কুড়িটি খেঁজুর গাছের রসের হাড়িতে দানাদার (বিষ) মিশিয়ে শতাধিক দেশীয় পাখি শিকার করে শিকারিরা।
চলন বিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পাখি শিকার বন্ধে আইন থাকলেও চলন বিল এলাকায় সরকারি তেমন পদক্ষেপ ও তৎপরতা দেখা যায় না।
সিংড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, চলন বিলে বৃহৎ এলাকা হওয়ায় পাখি শিকার বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে বিলের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা সভা করছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট ও রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।

