ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় কসমেটিকস ও ইমিটেশন ব্যবসায়ী আবদুল হান্নান বাহারকে (৪৫) হত্যার ঘটনায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সফিউল আজম এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কনিকারা গ্রামের মরহুম আবু মিয়ার ছেলে মো. নূরু মিয়া; কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মকলিশপুর গ্রামের মরহুম আবদুস সাত্তারের ছেলে মো. জিয়াউল হক; একই উপজেলার বাঙ্গরা গ্রামের ভুট্টো খানের ছেলে লোকমান খান ও একই উপজেলার কামারচর গ্রামের আব্দুল বারীর ছেলে মো. কাদির হোসেন।
এই মামলার অপর আসামি মো. বাবুল মিয়া কারাগারে থাকাবস্থায় ২০১৮ সালের ১৬ জুন মারা যায়। ফলে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
রায় ঘোষণাকালে আসামি জিয়াউল হক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামিরা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা গেছে, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার আম্বরনগর গ্রামের হাজী আবদুল লতিফের ছেলে আবদুল হান্নান বাহার ঢাকার চকবাজারে তার মালিকানাধীন ‘বিপুল এন্টারপ্রাইজ’ দোকানে কসমেটিকস ও ইমিটেশনের ব্যবসা করতেন। গত ২০১৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুর ৩টার দিকে বাহার বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজারে তার পাইকার লোকমান খানের কাছে যান।
মামলার দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনজন বিভিন্ন সময়ে আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে জানান, লোকমানের দোকানে যাওয়ার পর লোকমান তার শ্বশুর বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে বাহারকে একটি ইঞ্জিনের নৌকায় তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে নৌকায় আটকে রেখে
আত্মীয়-স্বজনদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন। আসামিরা ৪ আগস্ট থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত বাহারকে হাত-পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করেন। কিছু টাকা আদায়ের পর আরো টাকার জন্য বাহারকে হত্যার হুমকি দেয় আসামিরা।
৬ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে আসামিরা বাহারকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর লঞ্চ ঘাটের বিপরীত দিকে তিতাস নদীতে ফেলে হত্যা করেন।
৮ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে নদী থেকে বাহারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় বাহারের ছোট ভাই বেলাল হোসেন বাদী হয়ে ৯ আগস্ট বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রায় ঘোষণার পর আদালতের বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের স্ত্রী, কন্যাসহ স্বজনরা। তারা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।

