ঢাকাSunday , 29 December 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শীত বেকার করে দিয়েছে তাদের

Link Copied!

নিউজ ডেস্ক : আনু বেগম পেশায় দিনমজুর। ভোর না হতেই কাজের সন্ধানে ছুটতে হয় তাকে । তিনি। ১৫ বছর ধরে দিনমজুরি করে সচল রেখেছেন সংসারের চাকা।
সংসারে আছে অসুস্থ স্বামী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। তিন-চারশ টাকায় দিনমজুরিতে ভালই চলছিল তাদের। গত কয়েকদিনের তীব্র শীত এলোমেলো করে দিয়েছে তার প্রতিদিনের আয়ের উৎস। কারণ, শীতের কারণে অনেকেই কাজ করানোর আগ্রহ হারিয়েছেন।
রোববার ভোরে দেখা গেছে, আনু বেগম, মনি বেগম, সনজিতা ঘোষ, মমিনা খাতুনসহ প্রায় অর্ধশতাধিক দিনমজুর নারী শ্রমিক সুনামগঞ্জ পৌরশহরের খালীবাড়ী এলাকায় জড়ো হয়ে বসে আছেন। এখান থেকে তারা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে কাজ করেন। কিন্তু এখন তারা বসে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন।
আনু বেগম জানান, অভাবের সংসার। স্বামী অসুস্থ হওয়ার পর থেকে ছেলে-মেয়ের লেখা পড়া ও সংসার চালাতে বেছে নেন দিনমজুরের কাজ। প্রতিদিন কাজ করলে পান তিন থেকে চারশ টাকা। এই টাকায় সংসার, স্বামীর চিকিৎসা ও ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচও চলে। তবে শীত নামার পর থেকে সপ্তাহের অধিকাংশ দিন কাজ পাচ্ছেন না। ঋন করে সংসার চালাচ্ছেন ।
হাওর পাড়ের মনি বেগম, নতুন পাড়ার সনজিতা ঘোষ, হাছননগরের মমিনা খাতুনের অবস্থাও একই রকম।
মনি বেগম জানান, গত আট দশ বছর আগে স্বামী আরেকটি বিয়ে করে তাকে ছেড়ে চলে গেছে। এক কন্যা সন্তান। এই সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তা করে তিনিও বেছে নিয়েছেন দিনমজুরের কাজ। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিল্ডিং এর জুগালির কাজ, নদীতে বালু-পাথর আনলোড, মাঠির কাজসহ যে সময়ে সামনে যে কাজ পাচ্ছেন তিনি করছেন।
মনি বেগম জানালেন, ‘শীত নামার পর থেকে অন্তত পনের দিন যাবত কোন কাজ পাচ্ছেন না। খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে বাড়ি। ঋন করে চালাচ্ছেন সংসার। অভারের সংসারে কাজ না থাকায় নেমে এসেছে আরও অভাব। শীতের জন্য কাজের সন্ধানে বের হওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসন কম্বল বিতরণ করেছে কিন্তু আমরা দিনমজুর হয়েও বঞ্চিত।
একইভাবে মন্তব্য করলেন সনজিতা ঘোষ। তিনি জানান, স্বামী স্ট্রোক করে বিছানায় পরে আছেন। সংসারের হাল ধরার মতো ছেলেও নেই। অসুস্থ স্বামীকে বাড়িতে রেখে প্রতিদিন কাজের সন্ধানে বের হন। অধিকাংশ দিনই কাজ পাচ্ছেন না। তার মতো অনেক শ্রমিকরা কাজ না পেয়ে বেকার থাকছে।
দেখা গেছে, নতুন হাসননগরের রং মেস্তুরি সাদেক উদ্দিন, জানিগাঁও দিনমজুর আজাদুল ইসলাম, নবীনগরের লিপু বর্মণ, হেনা বেগম, দিলবাহার, মুমিনা খাতুন, ফাতেমা বেগমও কাজের সন্ধানে ঘুরে কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর জেলা সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান বলেন, ‘হাওর এলাকায় এখন প্রচণ্ড শীত ও হাওরে তেমন কোনো কাজ নাই। দিনমজুর মানুষের কাজ কর্ম খুবই কম। এবার ফসল রক্ষা বাঁধ হচ্ছে। এই বাঁধ নির্মান কাজে যদি দিনমজুর শ্রমিকদেরকে যুক্ত করা যেতে পারে তাহলে এই শ্রমিকরা উপকৃত হবে।’
এব্যাপারে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ‘বর্তমানে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ চলছে তারা যদি কাজ করতে চায় আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে কাজ করার সুযোগ করে দিব।’