ঢাকাSunday , 3 November 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চোরাই পথে আসছে ভারতীয় শত শত মণ নিম্নমানের চা পাতা

Link Copied!

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে আসছে ভারতীয় শত শত মণ নিম্নমানের চা পাতা, আর এতে হুমকির মুখে পড়েছে দেশীয় চা শিল্প।
হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে এসব ভারতীয় নিম্নমানের চা পাতা আসছে। ফলে বাগানে উৎপাদন বাড়লেও হবিগঞ্জের চা শিল্প এখন হুমকির মুখে। চোরাই পথে চা পাতা আসা বন্ধে বিজিবিসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তাতেও চোরাই পথে ভারতীয় চা-পাতা আসা অব্যাহত আছে। নিম্নমানের এসব চা পাতা আসা বন্ধ না হলে হবিগঞ্জের চা শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন এখানের বাগান কর্তৃপক্ষ।
এরইমধ্যে বাগান কর্তৃপক্ষ চোরাই চা পাতার অনুপ্রবেশ রোধে প্রশাসনের বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার চেয়েছেন। বাগান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ- ভারত থেকে মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর, চৌমুহনী, মনতলা, তেলিয়াপাড়া এবং চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি, আমু, নালুয়া সীমান্ত দিয়ে শত শত মণ চোরাই চা পাতা দেশে ঢুকছে প্রতিদিন।
ভারতের নিম্নমানের চা পাতা এদেশে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। তাই একশ্রেণির ক্রেতারা এসব চা পাতা ক্রয় করছেন। এছাড়া এগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে সংঘবদ্ধ চক্র। চোরাই চা পাতাকে কেন্দ্র করে মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া, জগদীশপুর, নোয়াপাড়াসহ চায়ের অবৈধ একাধিক প্রক্রিয়াজাতকরণ গুদাম তৈরি করেছে চক্রের সদস্যরা।
লস্করপুর ভ্যালি শ্রমিক সভাপতি রবীন্দ্র গৌড় বলেন, ‘চা শিল্পের সঙ্গে সারা দেশে কমপক্ষে ৫ লাখ চা শ্রমিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এছাড়া চা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতেও ভূমিকা রেখে চলেছে। হঠাৎ করে গত কয়েক বছর ধরে ভারত থেকে অবাধে সীমান্ত দিয়ে চা পাতা আসার কারণে দেশের চা শিল্প আজ হুমকির মধ্যে। ভারতীয় চা পাতা অবৈধ পথে আসা বন্ধ করা না গেলে চা বাগান বন্ধ হয়ে বেকার হয়ে যাবে হাজার হাজার চা শ্রমিক ।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী ম্যানেজার জানান, চিনি শিল্পের মতো চা শিল্পও ধ্বংস হতে যাচ্ছে। এ বছর ভারত থেকে আগাম শত শত মণ চা পাতা দেশের বাজারে চোরাই পথে প্রবেশ করেছে। এখন দেশে উৎপাদিত চায়ের দাম কমে গেছে। এক কেজি চা পাতার উৎপাদন খরচ পরে কমপক্ষে ১৭০ টাকা কিন্তু ভারতীয় নিম্নমানের চা প্রতি কেজি পাওয়া যায় মাত্র ১৫০ টাকা বা তারও কমে। শক্তিশালী একটি চোরাকারবারী চক্র এখন ভারত থেকে চোরাই পথে চা পাতা আমদানির ফলে দেশের চায়ের এমন দুরবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এটি প্রতিরোধ করা না গেলে চা শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। বিপুল পরিমাণ অবৈধ চা পাতা বাংলাদেশের প্রবেশের কারণে দেশের চা কম বিক্রি হওয়ায় বাগানগুলোতে লোকসানে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
৫৫ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল এম জাহিদুর রশিদ বলেন, ‘সীমান্তে চা পাতাসহ যেকোনো অবৈধ পণ্য প্রতিরোধে বিজিবি সোচ্চার রয়েছে। আমরা সীমান্তে টহল আরও জোরদার করেছি, যাতে কোনো অবৈধ পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ না করতে পারে। ফলে মাদক, ভারতীয় চোরাই চা পাতাসহ বিভিন্ন চোরাই মালামাল আসা অনেক কমে গেছে।’
অনুসন্ধানে জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার সাদ্দাম বাজার, গনকিরপাড়, ইকরতলী, গোছাপাড়া, ঘনশ্যামপুর, কালিশিরি, দেওরগাছ ইউনিয়নের আমতলীসহ বিভিন্ন গ্রামে জমা হয় ভারতীয় চা পাতা। এসব গ্রাম থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের ক্রেতারা চা পাতা কিনে নেয়।
চা পাতা চালানের জন্য নিরাপদ রুট হিসেবে চিমিটিবিল-আমু চা বাগান সড়ক, আমু চা বাগান-কালিশিরি সড়ক, চিমটিবিল-চন্ডিছড়া বাগান সড়ক এবং আমু চা বাগান-আমুরোড বাজার সড়ককে ব্যবহার করা হয়।
এ ব্যাপারে ডানকান ব্রাদার্স লিমিটেডের মালিকানাধীন চান্দপুর চা বাগানের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ভারত থেকে চোরাই পথে যে চা পাতা আসে, তা নিম্নমানের। এসব পাতা আমাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে আমাদের দেশীয় চা পাতার দাম পড়ে যাচ্ছে।’
আহমদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবেদ হাসনাত চৌধুরী সঞ্জু বলেন, ‘এখান দিয়ে সব সময়ই চোরাচালান হয়ে আসছে। প্রশাসনের সঙ্গে আমরাও চেষ্টা করি অবৈধ মালামাল আটকাতে। কিন্তু দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় চোরাকারবারিদের দমানো কঠিন হচ্ছে।’
বিজিবি ৫৫ ব্যাটালিয়নের বাল্লা সীমান্ত ফাঁড়ির প্রধান বলেন, ‘সব ধরনের চোরাচালান রোধে সীমান্তে নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন মালামালও জব্দ করা হয়। এ ব্যাপারে আমরা বিএসএফের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আরো বেশি জনবল থাকলে চোরাচালান রোধ করা সহজ হতো।’
চা-বাগান ও ভ্যালি সূত্রে জানা যায়, চা শিল্পকে টিকিয়ে রাখায় সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের পাশাপাশি বাগান ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের কারণে চলতি মৌসুমে (মার্চ-সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লস্করপুরে ভ্যালির ১৭টি চা-বাগানে ১৯.৩৪ শতাংশ চা বেশি উৎপাদন হয়েছে। চলতি চায়ের মৌসুমে আগাম বৃষ্টির কারণে মার্চের পরিবর্তে ফেব্রুয়ারিতেই উৎসবমুখর পরিবেশে ভ্যালির ১৭টি চা-বাগানে চা উৎপাদন শুরু হয়।
লস্করপুর ভ্যালির চেয়ারম্যান ও চন্ডিছড়া চা-বাগানের ব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, চা বোর্ড এবং বাগান ব্যবস্থাপকদের আন্তরিক চেষ্টা, আগাম ও পরিমিত বৃষ্টি এবং চা শ্রমিকদের আপ্রাণ চেষ্টার কারণেই এবার ভ্যালিতে উৎপাদন বাড়তে যাচ্ছে। আশা করি, এবার রেকর্ড উৎপাদনে যাবে লস্করপুর ভ্যালি।
লস্করপুর ভ্যালির ১৭টি চা-বাগানের ফাঁড়িসহ ২৪টি বাগানে উৎপাদনের এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের চা শিল্পের ইতিহাসে চলতি বছর ভ্যালিতে উৎপাদনের রেকর্ড সৃষ্টি হবে এবং চা শিল্পের বিপর্যয় রোধ হবে।
বাংলাদেশ চা বোর্ড জানায়, এ বছর চায়ের বাম্পার ফলন হবে। ২০১৬ সালে রেকর্ড ৮৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় রেকর্ড ৮২ মিলিয়ন কেজির বেশি চা উৎপাদন হয়। এবার সেটি ৯০ মিলিয়ন ছেড়ে যাবে।
শ্রীমঙ্গলের চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) পরিচালক মোহাম্মদ আলীও আশা ব্যক্ত করেন, এবার চা উৎপাদন ৯০ মিলিয়ন কেজির বেশি হবে।