নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘পথ একটাই। বাংলাদেশের মানুষ সব সময় তাদের দাবি আদায় করেছে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না। আমাদেরকে রাস্তায় নামতে হবে। আমাদেরকে আন্দোলন করতে হবে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে সরকারকে বাধ্য করতে হবে।’
মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা একটা কঠিন সময় পার করছি। যে সময়টা বাংলাদেশের জন্য, বাঙালি জাতির জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ। আমাদের যা কিছু অর্জন তার সবকিছু শেখ হাসিনার সরকার তছনছ করে দিয়েছে। ১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম গণতন্ত্রের জন্য। সেই গণতন্ত্রকে আজ ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারিনি। দুই বছর হয়ে গেল, একজন রোহিঙ্গাও তার দেশে ফিরে যেতে পারেনি।
তিনি বলেন, আমরা আতঙ্কিত হয়ে আছি- আজকে ভারতের আসামে যে রেজিস্ট্রেশন করেছে, ভারতের নেতারা বলছে, তার মধ্যে ১৯ লক্ষ নাকি বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে গেছে। আমরা পরিষ্কার করে বলে দিয়েছি, ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশের কোনো লোক ভারতে যায়নি, যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
‘একদিকে রোহিঙ্গা নিয়ে আছি, অন্যদিকে দেখা যাবে, লক্ষ লক্ষ লোককে বাংলাদেশের পাঠানো হচ্ছে। এটা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র’, বলেন বিএনপির মহাসচিব।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে, অভিযোগ করে তিনি বলেন, গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মিথ্যাচার করা হয়েছে। একদিন এই মিথ্যাচারের জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে। খালেদা যে অবস্থায় গিয়েছিলেন, এখন তিনি সেই অবস্থায় নেই।
অতীতের সেই যুবদল এখন আর নেই, উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, যুবদলের চেইন আব কমান্ড ভেঙে পড়েছে।
তিনি যুবদলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, কারো দিকে তাকিয়ে থেকে নয়, আসুন আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করি।
এই আন্দোলনে জন্য দলকে সুসংগঠিত করার আহ্বান জানান বিএনপির এইজ্যেষ্ঠ নেতা।
যুবদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ইতিহাসে যাদের নাম লেখা রয়েছে বা ভবিষ্যতে যাদের নাম লেখা থাকবে তারা সেই গৌরব অর্জন করেছেন পথ থেকে পথে হেঁটে, পদের মাধ্যমে নয়। আশা করি, আপনারা সেই বিষয়টি মাথায় রেখে সামনের দিকে অগ্রসর হবেন। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন-সংগ্রামে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতাকর্মীরা দুপুর ২টা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিট থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউটে আসেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
সভায় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক আব্দুস সালাম, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন আহসান প্রমুখ।

