নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারের চলমান ক্যাসিনোবিরোধি অভিযানে জাতীয় পার্টির এক প্রেসিডিয়াম সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুখে কুলুপ এঁটেছেন দলটির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি।
রোববার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির সভায় সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। কলাবাগান ক্লাবে ক্যাসিনো পরিচালনায় জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সেন্টুর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জি এম কাদের বলেন, ‘এ নিয়ে পরে কথা বলব।’
তিনি বলেন, সঠিক ও অত্যন্ত শক্তিশালী নেতৃত্বে শেখ হাসিনা দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করবেন। আমরা ওনাকে কথা দিতে চাই, জাতীয় পার্টির তরফ থেকে এ প্রচেষ্টার সব সময় তার পাশে থাকব। তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
‘আমরা যখন যেভাবে পারি, যেভাবে ওনারা চাইবেন, সেভাবে এ কর্মকাণ্ডকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য আমরা সহযোগিতা করব,’ বলেন কাদের।
তিনি বলেন, আগামী ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল। এর আগে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জাতীয় পার্টির কমিটিগুলোকে ঢেলে সাজানো হবে। এজন্য বিভাগীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কমিটি করা হয়েছে।
তৃণমূলে দলের অবস্থা তুলে ধরে জি এম কাদের বলেন, অনেক জায়গায় আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। প্রায় জায়গায় সমস্যা আছে, বিশৃঙ্খলা আছে। কাউন্সিলের আগে এসব গুছিয়ে নিতে না পারলে সংগঠনকে সার্বিকভাবে শক্তিশালী করতে পারব না।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, দলে যারা দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন, শৃঙ্খলা ও ঐক্যের স্বার্থে তাদের মিমাংসা করতে বলব। তবে যুক্তিতর্কের পরেও যারা একমত হবেন না, তাদের বিষয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেব।
তিনি বলেন, আমরা নতুন ধারায় অগ্রসর হতে যাচ্ছি। সামনের দিকে গঠনতন্ত্র সংস্কার ও সংশোধন করতে হলে, প্রয়োজনে তাই করব।
খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির আহ্বায়ক, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপার সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য সচিব ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়ের সঞ্চালনায় বৈঠকে বক্তব্য রাখেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ দিদার বখত, যুগ্ম মহাসচিব শফিকুল ইসলাম মধু, সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সরু, শেখ মাতলুব হোসেন লিয়ন, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক এবিএম লিয়াকত হোসেন চাকলাদার, সাতক্ষিরা জেলার সভাপতি আজহার উদ্দিন, নড়াইল জেলার সভাপতি ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ, ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি সাবেক এমপি নুরদ্দিন, বাগেরহাট জেলা সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান, কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি নাফিস আহমেদ খান টিপু, সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়ার জামিল জুয়েল, মেহেরপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক সাইফুল সেলিম, খুলনা মহানগর সভাপতি শওকত প্রমুখ।

