নিজস্ব প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নমিনেশন বিক্রি করে ১০ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার টাকা আয় করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে ২০১৮ সালের আয়-ব্যয়ের হিসেব জমা দেয় দলটি। ইসি সচিব মোহাম্মদ আলমগীরের হাতে হিসাব জমা দেয় আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল।
পরে নির্বাচন কমিশন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এইচ টি ইমাম জানান, এবার আওয়ামী লীগের আয় হয়েছে ২৪ কোটি ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৭০৭ টাকা। ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ৫৫৭ টাকা। দলের তহবিলে ৩৭ কোটি ৫৭ লাখ ৭৮ হাজার ৫৮৭ টাকা অবশিষ্ট রয়েছে।
কোন কোন খাত থেকে আয় হয়েছে, সে প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংসদ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের নমিনেশন ফরম বিক্রি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ, জাতীয় কমিটি ও জেলা কমিটির প্রাথমিক সদস্যদের চাঁদা, প্রাথমিক সদস্য ফরম বিক্রি, বিশেষ অনুদান, নির্বাচনের সময় প্রাপ্ত অনুদান, ভবন নির্মানের জন্য অনুদান, ব্যাংক থেকে পাওয়া সুদ, পত্রিকা প্রকাশনা, পুস্তক বিক্রি ও বিজ্ঞাপন থেকে আয় এবং বিবিধ আয়।
যেসব খাতে ব্যয় হয়েছে তা হলো- কর্মচারীদের বেতন-বোনাস, আপ্যায়ন ও অন্যান্য খরচ, বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন, সাংগঠনিক খরচ, অফিস রক্ষণাবেক্ষণ, ত্রাণ কার্যক্রম, ভবন নির্মাণ, বাড়ি ভাড়া, জাতীয় নির্বাচনের খরচ।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে প্রত্যেক বছরেই আওয়ামী লীগ লাভের মুখ দেখছে। ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগের আয় ছিল ২০ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪৩৬ টাকা। একই বছরে দলটির ব্যয় হয়েছে ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৯ টাকা। বছর শেষে তাদের ৬ কোটি ৬১ লাখ ৪৮ হাজার ১১৭ টাকা উদ্বৃত্ত ছিল।
২০১৬ সালে দলটির আয় হয়েছিল ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭ টাকা। ব্যয় হয়েছিল ৩ কোটি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৯৯ টাকা। উদ্বৃত্ত ছিল ১ কোটি ৮২ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৯ টাকা।
২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ আয় করে ৭ কোটি ১১ লাখ ৬১ হাজার ৩৭৫ টাকা। ব্যয় করে ৩ কোটি ৭২ লাখ ৮১ হাজার ৪৬৯ টাকা। প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত ছিল।
২০১৪ সালে দলটি আয় দেখিয়েছে ৯ কোটি ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৩ টাকা। ব্যয় দেখিয়েছে ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৪০ হাজার ৮২১ টাকা। প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত ছিল।
২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ আয় দেখিয়েছিল ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ব্যয় দেখিয়েছিল ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ বছর প্রায় ৬ কোটি টাকা দলটির উদ্বৃত্ত ছিল।
২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রথা চালুর পর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ মেনে প্রতিবছর আর্থিক লেনদেনের হিসাব দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর।
কোনো দল পরপর তিন বছর আয়-ব্যয়ের হিসেব জমা না দিলে ইসি চাইলে তার নিবন্ধন বাতিল করতে পারে।

