ঢাকাThursday , 13 June 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাজেটে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না : বিএনপি

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : নতুন অর্থবছরের বাজেটে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না বলে মনে করে বিএনপি। প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে ঋণ ও করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এই বাজেটের ফলে দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঋণনির্ভর হয়ে পড়বে বলেও দাবি দলটির।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের একজন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এ অনির্বাচিত সরকারের বাজেট দেওয়ার নৈতিক অধিকার নেই। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেমন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, তেমনি চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।’
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি দেশের ৪৮তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯তম এবং বর্তমান অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী বাজেটের আকার সংশোধিত বাজেট থেকে ৮০ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকার মতো বেশি।
নতুন বাজেটে ব্যয় মেটাতে সরকারি অনুদানসহ আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এনবিআর–বহির্ভূত করব্যবস্থা থেকে আসবে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন সেবামূলক খাত থেকে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করে রাখা হয়েছে। বরাবরের মতো আগামী বাজেটের ঘাটতিও থাকছে জিডিপির ৫ শতাংশ। মোট ঘাটতি ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।
রাজধানীর বনানীতে নিজের বাণিজ্যিক কার্যালয়ে বাজেটের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একমাত্র অনির্বাচিত দেশ বাংলাদেশ। এ অনির্বাচিত সরকারের বাজেট দেওয়ার নৈতিক অধিকার নেই। কারণ, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধও নয়।’
‘দেশের অর্থনীতি কিছুসংখ্যক মানুষের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। তারা বাজেট প্রণয়ন করছে, তারা অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে, আবার তারাই সরকার পরিচালনা করছে। সামষ্টিক অর্থনীতি নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ঋণনির্ভর বাজেট দিতে হচ্ছে। এক মিলিয়নের বাজেট যে তিন মিলিয়ন দেওয়া হচ্ছে, এ টাকা আমার-আপনার পকেট থেকেই নেওয়া হবে। করের মাধ্যমে, ভ্যাটের মাধ্যমে বা অন্যান্য মাধ্যমে এ টাকা সরকার মানুষের পকেট কেটে নেবে।’
তিনি বলেন, ‘ধনী ও সুবিধাভোগী শ্রেণির কথা চিন্তা করেই প্রস্তাবিত বাজেট দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের কোনো উপকার হবে না। প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে ঋণ ও করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বাজেটের ফলে দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঋণনির্ভর হয়ে পড়বে। এ ঋণ শোধ দিতে দেশের মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। নাগরিকদের ভুগতে হবে চরমভাবে।’
তিনি সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যদি প্রবৃদ্ধি বেড়ে থাকে তাহলে পুঁজিবাজারের এই অবস্থা কেন? বেকারত্ব বাড়ছে কেন, বেকারত্ব তো কমার কথা। মানুষ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বিদেশে যাচ্ছে কেন? বিনিয়োগ হচ্ছে না কেন? বিনিয়োগ ছাড়া কীভাবে প্রবৃদ্ধি বাড়ে?’
‘যদি ব্যাংকে তারল্য সংকট থাকে, বিনিয়োগ না হয়, তাহলে প্রবৃদ্ধিটা আসলো কোত্থেকে? লেবার ফোর্স সার্ভেতে বলা হচ্ছে, মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। তাহলে প্রবৃদ্ধি বাড়ল কীভাবে? প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির মূল ড্রাইভার কনজামশান, প্রবৃদ্ধি বাড়ার মূল ড্রাইভার বিনিয়োগ, প্রবৃদ্ধি বাড়ার মূল ড্রাইভার হচ্ছে আমদানি-রপ্তানি, গভার্নমেন্ট এক্সপেনডিচার প্রবৃদ্ধির বাড়ার আরেকটা ড্রাইভার, গভার্নমেন্ট এক্সপেনডিচার ইতিমধ্যে ৫৫ শতাংশ বাস্তায়ন হয়েছে, গভার্নমেন্ট এক্সপেনডিচারের কোয়ালিটি কী? ১০০ মিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট ৩০০ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। এসব কোনো কিছুই প্রবৃদ্ধি বাড়ার দিকে ইঙ্গিত করে না,’ বলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এদিকে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। শুক্রবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।