
প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল বিতরণ করছেন জেনারেল ম্যানেজার শাহ্ জুলফিকার হায়দার (পিইঞ্জ)
চট্টগ্রাম ব্যুরো : সরকারের ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই, সীতাকুন্ড এবং ফেনী জেলার সোনাগাজীতে অবস্থিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর’ অন্যতম। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এর চেয়ারম্যান এর নির্দেশনায় মীরসরাইস্থ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর’ এলাকায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর জেনারেল ম্যানেজার শাহ্ জুলফিকার হায়দার (পিইঞ্জ) এর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম পবিস-৩ এর কর্মকর্তা এবং কর্মচারিবৃন্দ প্রাথমিকভাবে মীরসরাই উপজেলার (যেখানে শিল্পনগর এর সিংহভাগ অবস্থিত) বেকার যুবকদের নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর শুভ উদ্বোধনকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জমি প্রদান করে যারা শিল্প নগর স্থাপনে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে যারা জমি প্রদান করে শিল্পনগর স্থাপনে সহযোগিতা করেছেন, তাদের পরিবারের মধ্য হতে আবেদন সংগ্রহপূর্বক ৪র্থ ব্যাচ (যাদের অধিকাংশই জমি প্রদানকারী পরিবারের সদস্য) প্রশিক্ষণ শুরু করা হয়। উক্ত ব্যাচে ৩৩ জন প্রশিক্ষণার্থী উত্তীর্ণ হন। এ নিয়ে গত ৪টি ব্যাচের মাধ্যমে মোট উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা ১১৬ জন। যারা বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর এলাকায় কাজ করছেন এবং অত্র পবিসে ব্যাপকভাবে ওয়্যারিং এর কাজ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
উক্ত প্রশিক্ষণ আয়োজনের প্রধান সমস্যা হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রশিক্ষকের অভাব এবং প্রশিক্ষণার্থীদের যাতায়াত সমস্যা। বর্ণিত সমস্যা বিবেচনায় এনে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর আওতাধীন ৩টি উপজেলায় ৩টি উপজেলায় মীরসরাই, সীতাকুন্ড ও হাটহাজারীতে একইসাথে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ৫ম ব্যাচ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত প্রশিক্ষণে সীতাকুন্ড উপজেলায় ৪০ জন, মীরসরাই উপজেলায় ২৫ জন এবং হাটহাজারী উপজেলায় ২৫ জন প্রশিক্ষণার্থীদের একইসাথে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে হওয়ায় একজন প্রশিক্ষক ৩ উপজেলায় একইসাথে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে পারছেন এবং সরাসরি প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন। এক্ষেত্রে একজন প্রশিক্ষক যে কোন একটি পয়েন্টে থেকে একই সাথে ৩টি স্থানে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে সক্ষম হচ্ছেন। এক স্থানে প্রশিক্ষণ আয়োজন করলে একসাথে ২৫-৩০ জনের বেশি প্রশিক্ষণ প্রদান করা সম্ভব হয় না। কিন্তু ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ প্রদান করলে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষণার্থীকে একইসাথে প্রশিক্ষণ প্রদান করা যায়। তবে এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ব্যবহারিক ক্লাসগুলো পৃথকভাবে আয়োজন করতে হবে। অর্থাৎ ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষণ আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে এবং ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

