নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় নাইকো দুর্নীতির মামলার চার্জ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ১৯ মে ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার পুরান ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমান এ তারিখ ঠিক করেন।
এদিন তার মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন দাখিল এবং শুনানির দিন ধার্য ছিল।
শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলেন, কারাকর্তৃপক্ষ অসুস্থতার জন্য খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। ওই কারণে তাকে আদালতে হাজির করা যায়নি। যেহেতু চার্জ শুনানিতে আসামির উপস্থিতি থাকতে হয়, তাই খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এদিন চার্জ শুনানি আইন সম্মত হবে না।
শুনানি শেষে আদালত চার্জগঠনের শুনানি পিছিয়ে ১৯ মে ঠিক করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী হান্নান ভূঁইয়া এতথ্য জানান।
এর আগে গত ১ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে কারাকর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করে।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, প্রাক্তন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন ও প্রাক্তন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, ঢাকা ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া (সিলভার সেলিম), জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ, প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বাপেক্সের প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক।
২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাটির তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
চার্জশিটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে ২০০৮ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন। ২০১৫ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট রুল ডিসচার্জ করে স্থাগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে মামলাটি করা হয়।

