নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, ‘দেশের শ্রমিকদের কল্যাণে রাজনীতি করে জাতীয় পার্টি। আগামী দিনেও জাতীয় পার্টি শ্রমিকদের সকল স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে। শ্রমিকদের সকল যৌক্তিক দাবি আদায়ে রাজপথের পাশাপাশি জাতীয় সংসদেও সোচ্চার ভূমিকা রাখবে।’
বুধবার রাজধানীর মিরপুর দারুস সালাম থানা সংলগ্ন বর্ধনবাড়ি বটতলা মোড়ে জাতীয় মোটর শ্রমিক পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জি এম কাদের বলেন, ‘এখনো শ্রমিকরা চরম অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। কম মজুরি নিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের অধিকার নিয়ে আমরা আগেও সোচ্চার ছিলাম, ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকব।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর মে দিবস এলেই শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কথা হয়, মূল্যায়ন করা হয় শ্রমিকদের অধিকার প্রসঙ্গে। এটুকুই, তা আর বাস্তবে প্রতিফলিত হয় না। শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য দেশে অনেক আইন আছে, কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো এই আইনগুলো শ্রমিকদের স্বার্থে ব্যবহার করা হয় না। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রমিকদের শতভাগ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৯৯ ভাগ শ্রমিকদের অধিকার অনিশ্চিত থাকে।’
মোটর শ্রমিক পার্টির সভাপতি ও জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব মোস্তাকুর রহমান মোস্তাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি।
উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয়, পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রাজ্জাক খান, দেলোয়ার হোসেন খান মিলন, জাতীয় শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান শিপন, সহসভাপতি ওহিদুল ইসলাম রানা, ফারুক শেঠ প্রমুখ।
সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। শ্রমিকদের সম্মানজনক মজুরি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের সাথে থেকে শ্রমিকদের দাবি আদায়ে জাতীয় পার্টি ভূমিকা রাখছে।’
তিনি বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে শ্রমিকরা সুখে ছিল, এত সমস্যায় ছিল না। কারণ শ্রমিকবান্ধব ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। যৌক্তিক দাবি নিয়ে যখনই শ্রমিকরা তার কাছে গেছেন, সঙ্গে সঙ্গেই শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়ন করেছেন।’
পার্টির যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয় বলেন, ‘শ্রমিকদের ঘাম মাটিতে পড়ার আগেই তাদের পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা থাকলেও শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার পাচ্ছে না। শ্রমিকরা কোনো দলের নয়। তাদের স্বার্থরক্ষায় সকলকেই একযোগে কথা বলতে হবে।’

