যশোর প্রতিনিধি : যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় সেচপাম্পের মালিকানা নিয়ে ঘটেছে তুলকালাম। মারামারিতে নিহত হয়েছে দু’জন। উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের প্রতাপকাঠি গ্রামে রোববার এ ঘটনা ঘটে।
মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া প্রতাপকাঠি গ্রামের মৃত সুরেন সেনের চার ছেলে পৈতৃক সূত্রে একটি সেচপাম্প পেয়েছিলেন। এই সেচপাম্পটি নিয়ে সুরেন সেনের ছেলেদের মধ্যে চরম অশান্তি দেখা দেয়।
চার ছেলের বড় ছেলে আনন্দ সেন ঢাকাতে থাকেন। সেচপাম্পের মালিকানা নিয়ে সেজ ছেলে মাধব সেন ও ছোট ছেলে যাদব সেনের সঙ্গে মেজ ছেলে মদন সেনের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। ওই পাম্পের মালিকানা পেতে দুই বছর আগে তারা ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেন।
পরিষদের পক্ষ থেকে তিন ভাইকে এক বছর করে বোরো মৌসুমে সেচপাম্প চালানোর সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পাম্পটি তাঁদের মেজ ভাই মদন সেনের দখলে যায়। সময় পার হলেও মদন সেন পাম্পের দখল ছাড়তে চাননি।
মাধব সেনের ভাষ্য, বোরো মৌসুম শেষ হওয়ায় রোববার যাদব সেন এবং ভাগনে বিশ্বনাথ দাসকে সঙ্গে নিয়ে সেচপাম্পটি খুলে আনতে প্রতাপকাঠি গ্রামের ডুমুর বিলে যায়। খবর পেয়ে মেজ ভাই মদন সেন, তিন ভাগনে সুবাস দাস, কানাই দাস ও উত্তম দাস এবং তাদের সহযোগী ইমান আলী পথেই লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলে যাদব সেনের মৃত্যু হয়।
মনিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম এনামুল হক বলেন, যাদব সেনের কয়েক মাস আগে ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে। মেজ ভাই, তিন ভাগনে এবং তাঁদের এক সহযোগী লাঠি দিয়ে পেটানোয় ঘটনাস্থলেই যাদব সেনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন আছে।
তিনি জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উত্তম, সুবাস ও কানাই দাসের বাবা গোপাল দাসকে আটক করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ভাই মাধব সেন ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন বলে মণিরামপুর থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) এসএম এনামুল হক নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মামলায় হুকুমের আসামি ছিলেন তাদের বোনজামাই গোপাল দাস (৭৫)। বিকেলে তাকে আটক করে আদালতে নেওয়ার পথে বমি হয়। পরে সন্ধ্যায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের চিকিৎসক ডা. শারমিন আহমেদের বরাত দিয়ে সিনিয়র নার্স হাবিবা খাতুন জানান, বিকেল সাড়ে ছয়টার দিকে গোপাল দাসকে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। একঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসকষ্টজনিত কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

