নিজস্ব প্রতিবেদক : বিরোধীদলীয় উপনেতা ও পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বলেছেন, জাতীয় পার্টিতে কোনো বিভক্তি নেই। পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের যেকোনো সিদ্ধান্ত পার্টির সবাই মেনে নেন। দল করতে হলে সেটা করতে হবে। পার্টির বিভক্তি নিয়ে মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ ভিত্তিহীন।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে জাপা কার্যালয়ের সামনে জাতীয় যুবসংহতির ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এরশাদের মামলা প্রসঙ্গে রওশন এরশাদ বলেন, এরশাদের বিরুদ্ধে সকল মামলা রাজনৈতিক। তিনি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাই তাকে মামলা দিয়ে দমিয়ে রাখা হয়েছে। যাতে করে তিনি মাথা উচু করে রাজনীতি করতে না পারেন।
তিনি বলেন, এরশাদের শাসনামলেই দেশে প্রকৃত উন্নয়ন হয়েছে। তার আমলেই মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করেছে। উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে উন্নয়নকে গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন।
‘দেশে অধিক শিল্পায়ন না হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে না। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। এর বিরুদ্ধে আমরা সংসদে কথা বলব, প্রতিবাদ জানাব বলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা।
যুবসংহতির সভাপতি আলমগীর সিকদার লোটনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক ফকরুল আহসান শাহাজাদার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জি এম কাদের, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা।
জি এম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি হচ্ছে দেশের ইতিবাচক রাজনীতির মূল নিয়ামক শক্তি। আর জাতীয় পার্টির মূল শক্তি হচ্ছে জাতীয় যুব সংহতি। তিনি জাতীয় পার্টিকে আরো শক্তিশালী করতে যুব সংহতির নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, দেশের মানুষ পল্লীবন্ধুর শাসনামলে ফিরে যেতে চায়। বলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশের কল্যাণে যে স্বপ্ন দেখেছেন, আমরা তা বাস্তবায়ন করবো। এজন্য দলকে আরো শক্তিশালী করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপিকা মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী, ফকরুল ইমাম, অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, মীর আবদুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা রওশন আরা মান্নান, নাজমা আক্তার, ড. নুরুল আজহার শামীম, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, নুরুল ইসলাম নুরু, সরদার শাহাজহান, যুগ্ম-মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, শেখ আলমগীর হোসেন, জহিরুল আলম রুবেল, কেন্দ্রীয় নেতা মোবারক হোসেন আজাদ, ইসহাক ভুইয়া, সুলতান মাহমুদ, জসিম উদ্দিন ভুইয়া, এবিএম লিয়াকত হোসেন চাকলাদার, সৈয়দা পারভীন তারেক, মিজানুর রহমান মিরু। কেন্দ্রীয় নেতা, আক্তার হোসেন দেওয়ান, এমএ সোবহান, মাহবুবুর রহমান খসুরু, এমএ কুদ্দুছ মানিক, তাসলিমা আকতার রুনা, জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় নেতা-আহাদ ইউ চৌধুরী শাহিন, শাহজাহান কবির, হেলাল উদ্দিন, মোতাহার হোসেন চৌধুরী রাশেদ, মিয়া আলমগীর, মো. দ্বীন ইসলাম শেখ, শহীদুল ইসলাম সেন্টু, মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, নুরুল বশর সুজন, শফিকুল ইসলাম দুলাল প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি পল্টন হয়ে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।

