ঢাকাThursday , 28 February 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভয়ংকর শর্ট বলের বিপরীতে ধ্রুপদী তামিম

Link Copied!

স্পোর্টস ডেস্ক : রৌদ্রজ্জ্বল প্রভাত যতটা সুন্দর ছিল, ছায়া ঘেরা মায়াময় বিকেল তার চেয়েও বেশি চিত্তাকর্ষক। পুবের সূর্য ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল সাত-সকালেই। কিন্তু সূর্যের গনগনে আগুন ঢালা মধ্যাহ্ন সব ভালো কেড়ে নেয়! পশ্চিমে হেলে পড়া সূর্যের সাথে ম্লান হয়ে যায় দিনের অর্জন!
নাহ! কিছু অর্জন ম্লান হয় না। ম্লান হয় না বলেই, তামিম ইকবালকে আউট করার পর কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম বলে ফেলেন,‘ওয়েল ব্যাট’। নেইল ওয়াগনারের ভয়ংকর শর্ট বলে হ্যামিল্টনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যখন আসা-যাওয়ার মিছিলে, তখন তামিম তুলে নেন ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট সেঞ্চুরি, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম।
দেশসেরা ওপেনারের রান ১২৬। আর বাকিদের সম্মিলিতে প্রচেষ্টায় আসে আরো ১০৮। সব মিলিয়ে হ্যামিল্টনের ২২ গজের সবুজ গালিচায় বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে তোলে ২৩৪ রান। চা-বিরতির পরপর বাংলাদেশকে অলআউট করে ব্যাটিং নেমে প্রথম দিন শেষে কিউইদের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ৮৬। ১৪৮ রানে পিছিয়ে থেকে স্বাচ্ছন্দ্যে দিন শেষ করে চওড়া হাসি কেন উইলিয়ামসনদের।
দিন শেষের এ চওড়া হাসি সকালে ম্লান করে দেন তামিম। ট্রেন্ট বোল্ট ও টিম সাউদিকে তুলোধুনে ৩৭ বলে ১০ চারে তুলে নেন ফিফটি। ১৩তম ওভারে বোল্টকে চারটি চার মারতেও দ্বিধা করেননি ড্যাশিং তামিম। তবে ফিফটির পর তামিম ছিলেন বিচক্ষণ। সময় নিয়ে ইনিংস বড় করেছেন। বলের মেরিট অনুযায়ী খেলেছেন। ওয়াগনার ও ডি গ্র্যান্ডহোমকে সামলেছেন দারুণ সামর্থ্যে।
৬৫ রানে গ্র্যান্ডহোমকে ফিরতি ক্যাচ দিলেও তা ধরতে পারেননি। জীবন পেয়ে তিন অঙ্কে পৌঁছান দ্রুত। ওয়াগনারকে চার মেরে পৌঁছে যান ল্যান্ডমার্কে। শতবলে তামিমের শতরান। প্রথম সেশনে ৮৫ রান তুলে অর্ধেক কাজ করে রেখেছিলেন। বিরতির পর শতরানের স্বাদ, অতঃপর ইনিংস বড় করার লড়াই। কিন্তু তামিমের লড়াই থেমে যায় গ্র্যান্ডহোমের বলে ১২৬ রানে। অফ স্টাম্পের বাইরের বল কাট করতে গিয়ে ক্যাচ দেন। ২১ চার ও ১ ছক্কা তামিমের ইনিংসটি শেষ হয় উইলিয়ামসনের হাতে।
দলের রান তখন ৫ উইকেটে ১৮০। এরপর ৫৪ রান যোগ করতেই নেই ৫ উইকেট। এর আগে সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মোহাম্মদ মিথুন, সৌম্য সরকাররা হতাশ করেছেন। ওয়াগনারের শর্ট বল যেন একেকটি বিভীষিকাময় ‘কামড়’। ৩ বাউন্ডারিতে দেশের বাইরে ক্রিকেট যাত্রা ভালো শুরু করেছিলেন সাদমান। কিন্তু বোল্টের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ২৪ রানে। মুমিনুল তামিমকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৬৪ রান। কিন্তু মধাহ্ন বিরতির আগে তাকে সাজঘরের পথ দেখান ওয়াগনার। শরীরের কাছের শর্ট বলে গ্লাভস ছুঁয়ে ক্যাচ যায় উইকেটের পেছনে।
এলোপাথারি শটে ওয়াগনারের দ্বিতীয় শিকার হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি থেকে ফেরা মিথুনের। আর সৌম্য তো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আউট। সাউদির বলের লাইন থেকে যে ব্যাট-গ্লাভস সরাতে হবে তা যেন ভুলেই গিয়েছিলেন সৌম্য। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ২২ করে আশা দেখাচ্ছিলেন। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন এ মাঠেই। তাই আত্মবিশ্বাসও ছিল তার। কিন্তু ওয়াগনারে শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে বিপদ ডাকেন অধিনায়ক। মিরাজ চা-বিরতির আগে ১০ রানে ক্যাচ দেন ওয়াগনারের শর্ট বলে শর্ট লেগে।
দিনের প্রথম ঘন্টায় ২ উইকেটে ১২২ রান তোলা বাংলাদেশ পরের সেশনে ৫ উইকেট হারিয়ে তোলে ৯৫ রান। শেষ ৩ উইকেট হারায় আরো ১৭ রান যোগ করে। চা-বিরতির পর সাউদির শর্ট বলে আবু জায়েদ রাহী ক্যাচ দেন উইকেটকিপার বিজে ওয়াটলিংয়ের হাতে। এ ক্যাচ নিয়ে টেস্টে ২০০ ডিসমিসালের কীর্তি গড়েন ওয়াটলিং। এরপর ডানহাতি পেসারের ইয়র্কারে বোল্ড হন খালেদ। বিরতির আগে ৪ উইকেট নেওয়া ওয়াগনার লিটনকে (২৯) ফিরিয়ে পান পঞ্চম উইকেটের স্বাদ। টেস্ট ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবারের মতো পাঁচ উইকেটের স্বাদ পাওয়া এ পেসার নিউজিল্যান্ডের সেরা বোলার। এ ছাড়া সাউদি ৩টি, বোল্ট ও গ্র্যান্ডহোম পেয়েছেন ১টি করে উইকেট।
মুস্তাফিজুর রহমানের বিশ্রামে টেস্ট ক্যাপ ওঠে ইবাদত হোসেনের মাথায়। অভিষিক্ত পেসার নিজের প্রথম ওভারেই পেয়ে যেতেন উইকেট। তার লাফিয়ে ওঠা বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন টম ল্যাথাম। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৭৭ রান করা এ ওপেনারের ক্যাচ ছাড়েন সৌম্য। ব্যাটিংয়ে মাত্র ১ রান করা সৌম্য ফিল্ডিংয়েও নড়বড়ে! এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি কিউইদের। জিত রাভাল ৫১ ও ল্যাথাম ৩৫ রান করে দিন শেষ করেছেন ভালোভাবেই।
‘আনকোরা’ পেস আক্রমণ, রাহী-খালেদ-ইবাদত শুরুটা খারাপ করেননি। তাদের ভালো বোলিংয়ে শুরুতে গুটিয়ে ছিল দুই বাঁহাতি ওপেনার। কিন্তু উইকেটে থিতু হয়ে পাল্টা আগ্রাসন দেখান দুজনই। দেখার বিষয় তাদের আক্রমণে নিউজিল্যান্ডের রান কোথায় গিয়ে পৌঁছে।