ঢাকাThursday , 28 February 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাটলারের ১৫০-এ আড়াল গেইলের ১৬২

Link Copied!

স্পোর্টস ডেস্ক : জয়ের জন্য ১৮ বলে দরকার ৩২ রান, হাতে ৪ উইকেট। ক্রিজে তখন ৮৬ রানের জুটিতে কার্লোস ব্রাফেট ৫০ ও অ্যাশলে নার্স ৪১ রানে অপরাজিত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য জয়টা হাতের নাগালেই প্রায়। কিন্তু আদিল রশিদের একটি ওভারই পাল্টে দিল সব চিত্র। পাঁচ বলের মধ্যে কোনো রান যোগ না করেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারাল শেষ ৪ উইকেট! মাত্র দ্বিতীয় দল হিসেবে ওয়ানডেতে চারশর বেশি রান তাড়া করে জয়ের খুব কাছে গিয়েও তাই আফসোস নিয়ে ফিরতে হলো ক্যারিবীয়দের।
ওয়ানডের এক ম্যাচে ৮০০ রান, এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কা, এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ছক্কা, টানটান উত্তেজনার পর রশিদের সেই ম্যাজিক্যাল ওভার- কী ছিল না গ্রানাডায় বুধবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ইংল্যান্ড চতুর্থ ওয়ানডেতে। ক্রিস গেইল ব্রায়ান লারার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ১০ হাজার রান করেছেন, প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫০০ ছক্কা আর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে ৩০০ ছক্কার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। কিন্তু গেইলের ৯৭ বলে ১৬২ রানের বিস্ফোরক ইনিংসটা শেষ পর্যন্ত আড়াল হয়ে গিয়েছে জস বাটলারের ৭৭ বলে ১৫০ রানের ঝড়ে।
চতুর্থ ওয়ানডে ইংল্যান্ড জিতেছে ২৯ রানে। আগে ব্যাট করতে নেমে বাটলারের সঙ্গে অধিয়ানক এউইন মরগানের সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ড ৬ উইকেটে করেছিল ৪১৮ রান। জবাবে শেষের ধসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থামে ৩৮৯ রানে। ওয়ানডেতে এটাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ স্কোর।
৪১৯ রান তাড়ায় ২৩ ওভারেই ২ উইকেটে ২২০ রান তুলে ফেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ছক্কার বৃষ্টি নামিয়ে গেইল ততক্ষণে পেয়ে গেছেন সেঞ্চুরি, তার নিজের দ্রুততম ৫১ বলে। তার সঙ্গে তখন তৃতীয় উইকেটে ১৭৬ রানের জুটিতে অপরাজিত ড্যারেন ব্রাভো পেয়ে গেছেন ফিফটি। পরের ওভারেই জোড়া ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। মার্ক উডের বলে ব্রাভো বেন স্টোকসকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৬১ রানে। মুখোমুখি প্রথম বলে ছক্কায় শুরুর পরের বল আবার উড়াতে গিয়ে আউট শিমরন হেটমায়ার। প্রথম চার উইকেটই উডের।
গেইল আরেক প্রান্তে চালিয়ে গেছেন, তার সঙ্গী অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। ষষ্ঠ উইকেটে ৬৯ রানের জুটি গড়ে ফেলেছিলেন দুজন। ৮৫ বলে দেড়শ পেরোনো গেইল ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি করে ফেলবেন বলেই মনে হচ্ছিল তখন। কিন্তু স্টোকসের বলে এলোমেলো হয়ে গেল গেইলের স্টাম্প। ৯৭ বলে ১১ চার ও ১৪ ছক্কায় গেইল থামেন ১৬২ রানে। পরের ওভারে ফেরেন হোল্ডারও, ২৯ রান করে।
ম্যাচ তখন ইংল্যান্ডের দিকে হেলে পড়েছে। সেটি আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিকে হেলে পড়ে ব্রাফেট ও নার্সের ৮৮ রানের জুটিতে। শেষ তিন ওভারে ৩২ রানের সমীকরণটা কঠিন কিছু ছিল না। কিন্তু রশিদের ৪৮তম ওভারেই পাল্টে গেল সবকিছু। প্রথম বলে আসে ২ রান। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে আউট হয়ে রশিদকে হ্যাটট্রিকের সামনে রেখে যান নার্স (৪৩) ও ব্রাফেট (৫০)। হ্যাটট্রিকটা না হলেও পরের দুই বলে দেবেন্দ্র বিশু ও ওশানে টমাসকে ফিরিয়ে ইংল্যান্ডকে দারুণ জয় উপহার দেন রশিদ।
নিজের প্রথম ৯ ওভারে রশিদ ৮৩ রান দিয়ে পেয়েছিলেন একটি উইকেট। শেষ ওভারে এসে শেষ পাঁচ বলে কোনো রান না দিয়েই এই লেগ স্পিনার নেন ৪ উইকেট! স্কোর ৩৮৯ রেখেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারায় শেষ ৪ উইকেট!
এর আগে ইংল্যান্ডকে চারশ ছাড়ানো সংগ্রহ এনে দিয়েছিল মূলত বাটলার ও মরগান জুটি। এই দুজনের চতুর্থ উইকেট জুটিতে ২০৪ রান এসেছে মাত্র ১২২ বলে। ১০০ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ভিতটা গড়ে দিয়েছিলেন জনি বেয়ারস্টো (৫৬) ও অ্যালেক্স হেলস (৮২)।
ইংল্যান্ডের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১২ ছক্কা ও ১৩ চারে ১৫০ রানের ইনিংসটি সাজান বাটলার। ৫১ থেকে সেঞ্চুরি ছুঁতে তার লেগেছে মাত্র ১৫ বল। পরের ১৬ বলে পৌঁছে যান দেড়শতে।
ইংল্যান্ডের ইনিংসে ছক্কা হয়েছে ২৪টি। তাতে ভেঙেছে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ ২৩ ছক্কার রেকর্ড। আর ম্যাচে সব মিলিয়ে হয়েছে ৪৬ ছক্কা। ২০১৩ সালে বেঙ্গালুরুতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের ৩৮ ছক্কা ছিল আগের সর্বোচ্চ। ম্যাচের ৮০৭ রান ওয়ানডে ইতিহাসে এক ম্যাচে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
প্রথম দুই ম্যাচে দুই দল জিতেছিল একটি করে। তৃতীয় ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে। চতুর্থ ম্যাচ জিতে ইংল্যান্ড সিরিজে এগিয়ে গেল ২-১-এ। আগামী রোববার সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন স্যামি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে শেষ ওয়ানডে।