ঢাকাMonday , 12 November 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লক্ষ্মীপুরের ১৮টি মাধ্যমিক স্কুলে সততা স্টোর চালু

Link Copied!

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা : চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরের ১৮টি মাধ্যমিক স্কুলে সততা স্টোর কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
সততা স্টোরে সাজানো রয়েছে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় বই, খাতা, কলম, স্কেল, জ্যামিতি বক্স ও খাবার সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য। পণ্যের গায়ে লেখা রয়েছে দাম। দেখে হিসাব করে নির্ধারিত বাক্সে টাকা রেখে পণ্য কিনে নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এভাবেই প্রয়োজনমতো পণ্য কেনাকাটা করছে স্কুলে পড়ুয়া ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীরা।
একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে শিক্ষার্থীদের সৎ ও আদর্শিক হিসেবে গড়ে তুলতে স্কুলে ‘সততা স্টোর’ চালুর ব্যতিক্রমি উদ্যোগে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া জেগেছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও বাস্তবমুখী এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। দুর্নীতিমুক্ত নতুন প্রজন্ম গড়ার ক্ষেত্রে এটি ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছেন তারা।
জানা যায়, ‘সততা স্টোর’ নামের বিক্রেতা বিহীন এই দোকানের পুঁজির ব্যবস্থা করছেন স্কুলের পরিচালনা পর্ষদ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে দোকানের জন্য প্রাথমিক পুঁজি সংগ্রহ করে বিনিয়োগ করছেন। দোকানে ঢোকার সময় রেজিস্ট্রার খাতায় শিক্ষার্থীর নাম, শ্রেণি ও রোল নম্বর লিখতে হয়। পরে মূল্য তালিকা দেখে কেনা পণ্যের দাম দোকানে রাখা ক্যালকুলেটরে হিসাব করে পরিশোধ করতে হয়। ক্রেতাকে একটি কাগজে পণ্যের নাম ও টাকার পরিমাণ লিখে টেবিলে রাখা খামে ভরে নির্ধারিত ক্যাশবাক্সে ফেলতে হয়। চাহিদামতো পণ্য না পাওয়া গেলে সেখানে রাখা আরেকটি রেজিস্ট্রারে লিখে অগ্রিম পরামর্শ দেওয়া যাবে। সরোজমিনে জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সততা স্টোরে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা এমন কেনাকাটায় বেশ উচ্ছসিত। আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সাথেই তারা কেনাকাটা করছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের উদ্যোগে গতবছর এ বিদ্যালয়ে ‘সততা স্টোর’ স্থাপন করা হয়। ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এখান থেকে কিনতে পেরে আনন্দিত শিক্ষার্থীরা।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, সততা স্টোরে কোন বিক্রেতা থাকে না। নিজেদের পছন্দ মতো পণ্য কেনা ও নিজ হাতেই মূল্য পরিশোধ, এতে তাদের নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি হচ্ছে। তারা সৎ মানুষ হয়ে গড়ে উঠার শিক্ষা পাচ্ছে সততা স্টোর থেকে।
প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, দুদকের পরিকল্পনায় সততা স্টোর চালু করে একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। এখান থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের পণ্য নিজেরাই কিনে নিচ্ছে। পণ্যের মূল্যও পরিশোধ করছে। এ পর্যন্ত কোন অসততা দেখা যায়নি এই স্টোরে। তিনি মনে করেন শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ ও সততা বাড়াতে প্রত্যেক বিদ্যালয়েই এরকম সততা স্টোর প্রয়োজন।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) লক্ষ্মীপুর শাখার সভাপতি প্রফেসর মাহবুব মোহাম্মদ আলী বলেন, স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দূর্নীতি বিরোধী কাজে উদ্বুদ্ধ করার এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। দূর্নীতিমুক্ত নতুন প্রজন্ম গড়ার ক্ষেত্রে এটি ফলপ্রসূ হবে বলে তিনিও মনে করেন।