নিজস্ব প্রতিবেদক : বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সংলাপে আলোচনা হবে সব বিষয়ে, তবে সংবিধানের আলোকে সিদ্ধান্ত হবে। আজকে (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে, এর চেয়ে বেশি কিছু বলা উচিত নয়।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। ভারতীয় প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন দেশটির ফুড অ্যান্ড পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সচিব শ্রী রাভিকান্ত। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলাসহ ১০ জনের একটি প্রতিনিধিদল ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ড. কামাল আলোচনার জন্য যে চিঠি দিয়েছিলেন তাতে উল্লেখ করেছিলেন, তাদের ৭ দফা ও ১১ লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা আবার সম্মতি জানিয়ে বলেছি সংবিধানের আওতায় থেকে আলোচনা করবো। সুতরাং সব বিষয়েই আলোচনা হবে। কিন্তু সংবিধান অনুসারে সিদ্ধান্ত হবে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি রাজবন্দিদের মুক্তির বিষয়ে তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু জেলে ছিলেন, আমরা ১৯৭৫ এর পরে জেলে ছিলাম। আমাদেরকে বলা হতো রাজবন্দি। কারণ, আমাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছিল না। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানসহ সবার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রায় হয়েছে। সুতরাং এরা রাজবন্দি নয়। অন্য কেউ যদি কারাগারে বন্দি থাকে তাদের নামেও মামলা রয়েছে। যাদের নামে মামলা থাকে তারা রাজবন্দি নয়। সুতরাং রাজবন্দি নেই, থাকলে না মুক্তি দেবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের রায়ের বিষয়গুলো আদালতের ব্যাপার। এগুলো নিয়ে আলোচনা করা উচিত নয়। এগুলো আদালতে এখতিয়ার।
সংলাপটা যদি কোনো কারণে ভেস্তে যায় তাহলে ভবিষৎ পরিণতি কী হবে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ আমাদের জন্য সুনির্দিষ্ট। লক্ষ্য ঠিক আছে, উভয়ের লক্ষ্য এক। একটা অবাধ, গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা। এই কাজটি সবসময় করে নির্বাচন কমিশন। সরকার নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করে। সুতরাং আলোচনা যাই হোক সকলেই এই সরকারের অধীনে এবং এই নির্বাচন কমিশনের তত্বাবাধনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।
অপর প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সংলাপ না করলেও বলে সংলাপ করে না। আবার করলে বলে সময়ক্ষেপণ, তাহলে সরকার কোন দিকে যাবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সংলাপ ফলপ্রসূ না হলেও সুনির্দিষ্ট সময়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান নির্বাচন কমিশন অংশগ্রহণমূলক নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত। আমাদের সবারই লক্ষ্য অবাধ নির্বাচন।

