ঢাকাThursday , 1 January 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ব্যর্থ হরতাল দিয়ে বছর শুরু জামায়াতের

Link Copied!

Hartal-1নিজস্ব প্রতিবেদক : জামায়াতে ইসলামীর হরতালে ২০১৪ সালকে বিদায় দিয়ে আবার নতুন বছর শুরু হয়েছে তাদের হরতালেই। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃতুদণ্ড প্রদানের প্রতিবাদে ডাকা হরতাল একদম সফল হয়নি। অন্যান্য হরতালে রাজধানী প্রাইভেটকার মুক্ত থাকলেও আজকের ছিত্রটা ছিল ভ্ন্নি। হরতালের শুরু থেকেই প্রচুর প্রাইভেটকার দেখা গেছে প্রতিটি সড়কেই।
দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর সড়কে তেমন হরতালের আমেজ নেই। সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ছাড়ছে দূরপাল্লার বাসও। বুহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দূরপাল্লায় অনেকগুলো বাস। গতকালের চেয়ে আজকের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। গতকাল যাত্রীশূন্য থাকলেও আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সিলেট, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালীর যাত্রীরা ঘরে ফেরার অপেক্ষায় ভিড় করছে বাস টার্মিনালে। বিশেষ করে ব্যবসায়িক কাজে যারা ঢাকা এসেছিলেন তাদের সংখ্যাই বেশি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে বেলা ১২টার মধ্যে অনেকগুলো বাস বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে ঢাকা-রামেগঞ্জের মোহন পরিবহন, ঢাকা–কুমিল্লার সাউদিয়া পরিবহন, ঢাকা-হাজিগঞ্জের কুদরতি দান।
এদিকে দূরপাল্লার বাসের হেলপাররা যাত্রীদের বাসে উঠানোর জন্য হাক-ডাক, টানা-হেঁচড়া শুরু করেছে অন্যান্য দিনের মতোই। যে বাস আগে ছাড়ছে সে বাসেই উঠতে চাচ্ছেন যাত্রীরা।
ঢাকা-হোমনার একটি বাস সার্ভিসের চালক শাকিল বলেন, ‘যেহেতু যাত্রীরা গন্তব্যে যেতে আগ্রহী তাই আমরাও বাস ছাড়ছি। তাছাড়া আজকে হরতালের তেমন প্রভাব নাই। যেহেতু হরতাল তেমন পালন হচ্ছে না তাই আমরাও বাস ছাড়তে পারছি।’
ঢাকা থেকে ফেনীগামী বাস আদনান আলিফের সুপারভাইজার মাহতাব হোসেন বলেন, ‘গতকাল হরতাল ছিল, আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আর কতোদিন? তাই একটু ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিলাম। মালিকের কাছ থেকে আমরা জোর করেই অনুমতি নিয়েছি। কারণ না বের হলে বউ-বাচ্চা নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।’
খুচরা যন্ত্রপাতি বিক্রেতা আবু আসলাম যাবেন কুমিল্লা। তিনি বলেন, ‘গত পরশু ঢাকায় এসে আটকে গিয়েছিলাম। আর বেশি সময় থাকলে ব্যবসার বারোটা বাজবে। তাই বাস টার্মিনালে এসেছি, দেখি যদি কোনো বাস ছাড়ে।’
লক্ষ্মীপুরের লাভীবা–মহীন দম্পতি বলেন, কয়েকদিন থেকেই বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।  আজ জরুরি কাজ আছে, না গেলেই নয়, তাই হরতাল থাকা সত্ত্বেও যেতে হচ্ছে।
সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন বলেন, ‘আসা করছি দুপুর ২টার পর বাকি বাসগুলোও ঢাকা ছেড়ে যাবে। হরতালে একদিনে যা ক্ষতি হয় তা পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হয় না।’
তিনি বলেন, ‘হরতালে অবশ্য মানুষের আগের মতো সাড়া নেই। মানুষ হরতালের মধ্যেও এখন বাড়ি ফিরতে চায়। তাই আমরাও যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে হরতাল শেষের দুই-তিন ঘণ্টা আগেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। সব বাস ঢাকা ছেড়ে যাবে বলে আশা করছি।’
এদিকে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ময়মনসিংহ, কিশোগঞ্জ, বিরিশিরিগামী দু’টি বাস ইমাম ও বিনিময় সকাল সাড়ে ৭টায় ছেড়ে গেছে বলে দাবি করেন মহাখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আজিজুল হাকিম।
তবে হরতালের সমর্থনে রাজধানীর বেশকিছু স্থানে জামায়াত-শিবির কয়েকটি মিছিল বের করলেও কোথায়ও কোনো পিকিটিং করতে দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে হরতালের শুরুর দিকে মগবাজার রেললাইনে দাঁড়িয়ে স্লোগান দেয় রমনা থানা জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী। কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করে বেশ কয়েকবার স্লোগান দেয়ার পর তারা চলে যায়। এসময় অবশ্য সেই রেলপথ দিয়ে কোনো ট্রেন চলাচল করেনি।