কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারে পৃথক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় দুইজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি পুলিশের নয় সদস্য আহত হয়েছেন। রোববার ভোরে টেকনাফ ও মহেশখালীতে এ ঘটনা ঘটে।
রোববার ভোরে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের দরগারছড়া এলাকায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ইমরান প্রকাশ পুতুইয়া মিস্ত্রী (৩৫)। এ সময় দেশি তৈরি দুটি বন্দুক, ৭ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন টেকনাফ থানার এসআই নাজিম, এএসআই মুরাদ, এএসআই দেলোয়ার ও সিপাহী ইমন। আহতদের টেকনাফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ইমরান হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়া এলাকার আজিজুল হকের পুত্র।
টেকনাফ থানার ওসি রণজিত কুমার বড়ুয়া জানান, ইয়াবা পাচারের গোপন সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করার সময় ইয়াবা কারবারিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এরপর পুলিশ সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুতুইয়া মিস্ত্রীর লাশ, দুটি অস্ত্র, গুলি ও ৭ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে, মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের সাপেরডেইল এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন মাহমুদুল করিম (২৮) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পুলিশের পাঁচ সদস্য। এ সময় আটটি দেশে তৈরি বন্দুক, ২০ রাউন্ড গুলি ও ২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মাহমুদুল করিম ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের দক্ষিণকূল এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- এসআই দীপক, এএসআই সনজিব, সিপাহী ইব্রাহিম, মাইন উদ্ধিন, আফতাব উদ্দিন। আহতদের মহেশখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের সাপেরডেইল এলাকায় কিছু সন্ত্রাসী অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে, এমন খবরে একটি দল অভিযান চালায়। এতে ঘটনাস্থলে পৌঁছা মাত্র সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছুঁড়তে থাকে। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটলে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাহমুদুল করিম নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। পরে ঘটনাস্থলের আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে আটটি দেশে তৈরি বন্দুক, ২০ রাউন্ড গুলি ও ২ হাজার ইয়াবা পাওয়া যায়।
ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ মাহমুদুল করিমকে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সে একজন চিহ্নিত মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। মাদক, অস্ত্র ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ছয়ের অধিক মামলা রয়েছে।’
নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি প্রদীপ।

