ঢাকাSunday , 16 September 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে জাতীয় সনদ প্রণয়নের পরামর্শ সুজনের

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনের জন্য সুষ্ঠু আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে দ্রুত সংলাপ আয়োজন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি জাতীয় সনদ প্রণয়ন ও স্বাক্ষর হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নেতারা।
রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘সুজন’ এর উদ্যোগে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন ও সুষ্ঠু নির্বাচন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তারা।
সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা মনে করি, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য আরপিওসহ বিভিন্ন আইনের সংশোধন হওয়া দরকার। কিন্তু সেগুলো হওয়া উচিৎ রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে মতামতের ভিত্তিতে। কিন্তু আমরা দেখলাম নির্বাচন কমিশন হঠাৎ করে নির্বাচনে ইভিএম এর প্রয়োগ নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছে। অথচ অনেক দেশই ইভিএম প্রয়োগ থেকে সরে এসেছে। তাই এখনই এবং বৃহৎ পরিসরে ইভিএম প্রয়োগ থেকে বিরত থাকা উচিৎ।’
তিনি বলেন, ‘এটি প্রয়োগ করতে হলে এর কারিগরি দিক নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হওয়া দরকার এবং এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হওয়া দরকার। আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো একে একে ভেঙে পড়ছে, যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া দরকার।’ দলীয় সরকারের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় না, এর বিরুদ্ধেও সোচ্চার হওয়া দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সুষ্ঠু তথা জেনুইন নির্বাচন আয়োজন করতে আমরা সাংবিধানিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা জানি, সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়টি নির্ভর করে একটি যথাযথ নির্বাচনী আইন ও এর কঠোর প্রয়োগের ওপর। আমরা দেখতে পেয়েছি যে, নির্বাচন কমিশন ইভিএম-সহ অনেকগুলো বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারের মতামত উপেক্ষা করে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে না জানিয়ে আরপিওতে সংশোধনী আনার জন্য কতগুলো প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। তাই নির্বাচনে জিতে আসতে সরকার উইপেনাইংজিং অব লিগাল ফ্রেমওয়ার্ক করছে কি না-তা ভেবে দেখা দরকার।’
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন শিথিল করা দরকার, যাতে গণসংহতির মতো সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘সরকার চাইলেই কেবল সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। অর্থাৎ সরকার চাইলে প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সরকারকে সহায়তা করতে বাধ্য হবে।’ স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের জন্য এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের বিধান তুলে দেওয়া দরকার।’
সিটি নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সুজন নির্বাহী সদস্য সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমরা নাগরিকেরা যেন ভোট দিতে পারি সেই নিশ্চয়তা চাই। আমরা মনে করি, সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া যেমন দরকার, একইসঙ্গে দরকার শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস ও ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়ন করা। আমরা মনে করি, সভ্য সমাজে সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস থাকতেই হবে। ভোট এখন চুরির বিষয়, ডাকাতির বিষয়ে পরিণত হয়েছে। দলীয় সরকারের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না।
সুজনের জাতীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, আজকে সবাই নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও আমরা আমাদের গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়নি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচ্ছন্ন হয়নি। আজকে জনগণের পক্ষে কেউ ঐক্যবদ্ধ হলে রাজনৈতিকভাবে তার জবাব না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। সরকার যদি উন্নয়ন করে থাকে তাহলে তাদের এত ভয় কেন? একজন নাগরিক হিসেবে আমি চাই, আমি যেন আমার ভোট দিতে পারি, মানুষ যেন সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে এবং শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার হস্তান্তর হয়।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার জোতির্ময় বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, রাজনীতিবিদ এএসএম আকরাম, জোনায়েদ সাকী প্রমুখ।