ঢাকাSaturday , 30 June 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মূলধন ঘাটতি পূরণে ১৮৫০ কোটি টাকা ছাড়

Link Copied!

নিউজ ডেস্ক : মূলধন সংকটে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ব বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকসহ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এক হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। এরমধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য সরকারি শেয়ার ধরে রাখার অর্থও রয়েছে। সম্প্রতি অর্থ বিভাগ থেকে এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রবল মূলধন ঘাটতিতে থাকা এই ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণের ব্যাপারে আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজে সংশ্লিষ্টরা ব্যস্ত থাকায় ২০১৭-২০১৮ অর্থবছর শেষ হওয়ার তিন দিন আগে এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ৯টি রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ও আলোচিত ব্যাংক বলে বিবেচিত ‘বেসিক ব্যাংক’-এর জন্য এ পর্যায়ে কোনো অর্থ ছাড় করা হয়নি। এই ব্যাংকটির জন্য ৪০০ কোটি টাকা চেয়েছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি সরকারি গৃহায়ন সংস্থা বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের (বিএইচবিএফসি) অনুকূলে আরো দেড়শ’ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। বার্ষিক ৩ শতাংশ হারে তাদের সুদ দিতে হবে।
সূত্র জানায়, অর্থ প্রাপ্তির দিক থেকে তিন রাষ্ট্রীয় ব্যাংককে মোট ১২ শ’ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই ব্যাংকগুলো হলো- সোনালী, জনতা ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। এদের প্রত্যেককে দেওয়া হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা করে। এছাড়া রূপালী ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে ১৯৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, সরকারি শেয়ার ধরে রাখার জন্য গ্রামীণ ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে ২১ লাখ টাকা, কর্মসংস্থান ব্যাংককে ৫০ কোটি টাকা, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংককে ৯০ কোটি টাকা এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে ১০ কোটি টাকা।
মূলধন ঘাটতিতে থাকা বেসিক ব্যাংককে অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ার কারণ হিসেবে অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ওপর থেকে কোনো নির্দেশনা না পাওয়ার কারণে এই ব্যাংকটিকে এ বছর কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি। গত অর্থবছরের বাজেট থেকে বেসিক ব্যাংককে সবচেয়ে বেশি অর্থ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের পারফরম্যান্স আশানুরূপ হয়নি। তহবিল সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করলেও বিশেষ খাত থেকে এই ব্যাংককে অর্থ দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হতে পারে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের তথ্যে দেখা যায়, গত ৪ অর্থবছরে সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি মেটানোর জন্য মোট ১০ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেওয়া হয়েছে বেসিক ব্যাংককে। এই ব্যাংককে মোট দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। বরাদ্দের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সোনালী ব্যাংক। তাদের দেওয়া হয়েছে ৩০০৩ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংককে ৮১৪ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংককে এক হাজার ৮১ কোটি টাকা ও রূপালী ব্যাংককে ৩১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ৬টি ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ চায়। ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ চায় সোনালী ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বৃহত্তম এই ব্যাংকটি মূলধন ঘাটতি পূরণে চায় ৬ হাজার কোটি টাকা।
এই ব্যাংকটিই ‘হল মার্ক’ কেলেঙ্কারির কারণে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব খাতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক জনতা মূলধন ঘাটতি পূরণে চায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাংকটিও ‘অ্যাননটেক্স’ নামের একটি অখ্যাত গ্রুপকে নিয়মনীতি না মেনে ৫ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।
দুর্নীতির কারণে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ব্যাংক বেসিক ব্যাংকও মূলধন পূরণে চেয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাংকটি ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন হারিয়েছে। মূলধন ঘাটতি মেটানোর জন্য রূপালী ব্যাংকের প্রয়োজন ১২ শ’ ৫০ কোটি টাকা। বিশেষায়িত ব্যাংক বলে বিবেচিত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ৭ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক চেয়েছে ৮০০ কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, মূলধন ঘাটতি মেটাতে সরকার যে অর্থ ছাড় করেছে তার জন্য বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এ অর্থ শুধু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মূলধন ঘাটতি পূরণে কাজে লাগাতে পারবে। ছাড় করা অর্থ অন্য কোন খাতে ব্যবহার করতে পারবে না।