নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে করপোরেট ট্যাক্স কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এছাড়া বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোসহ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের কথাও বলেন তিনি।
বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন বাংলাদেশ ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পদাক রিজভি নেওয়াজ, সাবেক সভাপতি মনোয়ার হোসেন প্রমুখসহ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, করপোরেট ট্যাক্স কমানোর দাবি অনেক দিনের। পর্যায়ক্রমে এটা অনেকটাই কমানো হয়েছে। আগামী বাজেটে এ বিষয়ে আরো কিছুটা কমানোর চিন্তা আছে আমাদের। আগামী অর্থবছরের বাজেটে ট্যাক্সের পরিধি বাড়বে। আমরা আশা করছি, ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের ৫০-৬০ শতাংশ লোক ট্যাক্স দেবে। চলতি অর্থবছর শেষে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মুহিত বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ করা হবে। কিছু নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে বরাদ্দ থাকবে। এমপিও সংস্কারের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় খুব বেশি আগ্রহী বলে আমার কাছে মনে হয় না। তারা সেভাবে সহযোগিতা করছে না। আগামী বাজেটে স্কুল বাস নামানোর বিষয়ে ঘোষণা থাকবে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ হয়ে গেছে। সিক্স-এইট পর্যন্তও কিছু কিছু ক্ষেত্রে জাতীয়করণ হয়ে গেছে। প্রাথমিক শিক্ষায় প্রধান শিক্ষকের সংকট থাকলেও সার্বিকভাবে এ শিক্ষার অবস্থা ভালো।
তিনি বলেন, সেকেন্ডারি স্কুলের সংখ্যার দিক থেকে একটা ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এখন কোয়ালিটির দিকে নজর দিচ্ছি। আগামী বাজেটেও কিছু সংখ্যক এমপিও দেব। কিন্তু এমপিও শুধু শিক্ষকদের জন্য হবে না। এমপিও হবে অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উপকরণের জন্য। এজন্য আলাদা আলাদা করে বরাদ্দ রাখা হবে। এ বরাদ্দটাও নির্ধারণ করবে অর্থ মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, আগে মানুষের মধ্যে একটা ভয় ছিল যে, একবার ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করলেই লোকজন ভাবেন করজালে আটকে গেলেন। কিন্তু এখন এ অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখন মানুষ উসৎবের সঙ্গে রিটার্ন দাখিল করছেন। এটা আট-দশ বছরের মধ্যে সরকারের একটা বড় সাফল্য।
সিটি করপোরেশন সেবা দেওয়ার বিপরীতে তিন ধরনের কর নিয়ে থাকে। তারপরও পরিস্কারকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের চার্জ আদায় করছে। এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নানান গোষ্ঠী এ ধরনের কাজ করে। তবে আমার মনে হয় এখন এ ধরনের কাজ কমে গেছে। এ ধরনের অনেক গোষ্ঠী ছিল। যারা জনগণকে ভয়-ভীতি দেখাতো। সুতরাং আমরা তাদেরকে জঙ্গিবাদ মনে করি। আর জঙ্গিবাদকে দমন করতে বাংলাদেশ সর্বশ্রেষ্ঠ। আমরা এ ধরনের গোষ্ঠীকেও নির্মূল করছি। এখন এটা অনেক কমে এসেছে।
তিনি বলেন, ২০১৫ সাল থেকে এ দেশে হারতাল জ্বালাও-পোড়াও বন্ধ হয়ে গেছে। তার সুফল এখন বিনিয়োগে আসছে। এখন বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বড়ছে। বিদেশি বিনিযোগও বাড়ছে।
কালো টাকার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে অনেক আগেই আইন আছে যে বড় ধরনের ফাইন দিয়ে কালো টাকা সাদা করা যায়। অনেক সময় দেখা যায় কারো নিকট অপ্রদর্শীত অর্থ রয়েছে সেটা যদি সরকারের কোষাগারে আসে সেটা ভালো।
মুহিত বলেন, টাকা পাচার নিয়ে আমাদের দেশে যত কথাবার্তা হয় আসলে ততটা টাকা পাচার হয় না। এক সময় হতো যখন মালয়েশিয়া সেকেন্ড হোম হিসেবে গড়ে উঠেছিল। এখন মালয়েশিয়া আমাদের এ বিষয়ে সহায়তা করছে। তাছাড়া দুবাইও এ বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। সুতরাং টাকা পাচারের কথা যতটা বলা হয় এটা আসলে ততটা নয়।
সঞ্চয়পত্রের সুদ হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা সামাজিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কাজ করে। তাই বাজারে যদি কেউ সুদ ১০ শতাংশ পায় তাহলে আমরা সঞ্চয়পত্রের সুদহার সাড়ে ১০ বা ১১ করে দেই। এখন পার্থক্যটা হয়ে গেছে সাত আর সাড়ে ১১ শতাংশ।
এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এখন আবার ব্যাংক ঋণে সুদহার বেড়েছে। সেটাও প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি এটা শুনে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাহলে তো সঞ্চয়পত্রের সুদ হার পুনর্নির্ধারণ করার প্রয়োজন হবে না।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বৈষম্য বেড়েছে। তবে একটা বড় অংশ দারিদ্র্যের হাত থেকে উত্তীর্ণ হয়েছে।
অবসর নেওয়ার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন আমি যেকোনো মুহূর্তে অবসর নিতে প্রস্তুত। একান্ত তৃপ্তির সঙ্গে।
চিনি শিল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চিনি দুনিয়াতে যত টাকায় পাওয়া যায় আমরা তারচেয়ে তিন চারগুণ বেশি দিয়ে কিনি। এটা করতে হয় শুধুমাত্র ১০ থেকে ১১টা চিনিকলের জন্য। চিনি এখন শুধু আখের ওপর নির্ভরশীল নয়। এখন চিনি তৈরির জন্য বিট অত্যন্ত সস্তায় পাওয়া যায়। তাই চিনি শিল্পকেই আমাদের দেশে রাখা উচিত নয়। এখনো যে চিনিকলগুলো রাখা হয়েছে সেটা একেবারেই খামাখা।

