নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজারে আশ্রয় শিবিরে রোহিঙ্গাদের ডায়রিয়া ও কলেরা থেকে সুরক্ষা প্রদানে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এই টিকা প্রদান করা হবে। বর্ষা মৌসুমে পানিবাহিত রোগসহ সম্ভাব্য রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষায় ইউনিসেফ এ উদ্যোগ নিয়েছে।
রোববার ইউনিসেফ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যে আয়োজিত এটি দ্বিতীয়বারের মতো কলেরা টিকাদান কর্মসূচি। এর আগে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ৯ লাখ ডোজ টিকা দুইভাগে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ড. বারদান জাং রানা বলেন, ‘জনাকীর্ণ ক্যাম্পের অত্যন্ত দুর্বল পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ বৃষ্টি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র জলীয় ডায়রিয়ার ঘটনা বাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করে স্বাস্থ্য বিভাগ কলেরা ও অন্যান্য পানি ও কীটপতঙ্গ বাহিত রোগ প্রতিরোধের জন্যে সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’
অন্তত ২৪৫টি ভ্রাম্যমাণ টিকা প্রদানকারী দলকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় অবস্থিত এক বছরের ওপর সব রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় কমিউনিটির বাসিন্দাদের টিকা প্রদানের জন্যে মাঠ পর্যায়ে মোতায়েন করা হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী এই কার্যক্রম স্বাস্থ্য ও পরিবার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নেতৃত্বে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ ও আইসিডিডিআর, বি এবং অন্য অংশীদাররাদের সহায়তায় পরিচালনা করা হবে।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এডুয়ার্ড বেগবেদার বলেন, ‘টিকা খাওয়ানো কর্মসূচি এটা বিশ্বের অন্যতম। গত বছরের অক্টোবরে প্রথম পর্যায়ের কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা কলেরার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে পেরেছি। তবে বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানি, শক্তিশালী ঝড় ও ভূমিধস ক্যাম্পের পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিতে পারে, যা আবারও এই ভয়াবহ রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় টিকাদানের মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপসহ আমাদের সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।’
এই টিকাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে আন্তঃসংস্থা সমন্বয় দলের (ইন্টার-সেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ) মাধ্যমে, যেখানে ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ, মেডিসিন স্যান্স ফ্রতিয়ারস ও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব দ্য রেড ক্রসের সদস্যরা রয়েছেন। এসব টিকা ও সামগ্রী কেনায় অর্থায়ন করেছে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাক্সিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই)।
বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘গত বছর হতে ব্যাপক জনস্রোতের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ১ লাখ ৩৫ হাজার বাংলাদেশিসহ প্রায় ১০ লাখ মানুষকে সুরক্ষা প্রদানে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ নিশ্চিত করতে কক্সবাজারে কর্মরত মানবিক সহায়তাপ্রদানকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান অংশীদারিত্বের অংশ হচ্ছে এই কর্মসূচি।’
টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি, বিশুদ্ধ পানির সহজ লভ্যতা, পয়নিস্কাশন ব্যবস্থা এবং উন্নত স্বাস্থ্যবিধি প্রণয়নের জন্যে সমান প্রচেষ্টা চালান হচ্ছে। ইউনিসেফ নিরাপদ অভ্যাসগুলো জোরদার করবার জন্যে কার্যক্রম বাড়াচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রাথমিক হুঁশিয়ারি, সতর্কতা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এছাড়া ডব্লিউএইচও পানির মান পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়াতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে কাজ করছে। যদি কখনও প্রাদুর্ভাব ঘটে সেক্ষত্রে দ্রুততম সময়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে জীবন রক্ষাকারী সামগ্রীর মজুত নিয়ে ডব্লিউএইচও ও ইউনিসেফ উভয়ই প্রস্তুত।

