ঢাকাTuesday , 17 April 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মারা গেলেন রাজীব হোসেন

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : দুই বাসের রেষারেষিতে ডান হাত হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন মারা গেছেন।সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যান তিনি।
ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার অবস্থার অবনতি হয়। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান।
দুই বাসের রেষারেষিতে গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেন। বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনে বাসের চিপায় পড়ে তার ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আঘাত পান মাথায়। এরপর তাকে শমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা ব্যয় বেশি হওয়ায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সরকারি তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। রাজীব সুস্থ হলে তার সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
শৈশবে বাবা মা হারানো পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামের রাজীব ঢাকার মতিঝিলে খালা জাহানারা বেগমের বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। মহাখালীর তিতুমীর কলেজে স্নাতকে ভর্তি হওয়ার পর যাত্রাবাড়ীতে মেসে থেকে পড়াশোনা করছিলেন তিনি। এর পাশাপাশি তিনি একটি কম্পিউটারের দোকানেও কাজ করছিলেন। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি ছোট দুই ভাইয়ের খরচ চালাতে হতো তাকে।
রাজীবের হাত বিছিন্ন করে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৪ এপ্রিল বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ (৩৫) ও স্বজন বাসের চালক খোরশেদকে (৫০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৫ এপ্রিল দুজনকে আদালতে তোলা হলে তাদের দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। ৮ এপ্রিল দুজনকে পাঠানো হয় কারাগারে। সোমবার দুই আসামির পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হলেও নামঞ্জুর করেন আদালত।
বাসচালকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি : দুই বাসের রেষারেষিতে চাপা পড়ে হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কলেজছাত্র রাজীবের মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে ঘাতক বাসচালকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে যাত্রী অধিকার আন্দোলন।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে যাত্রী অধিকার আন্দোলন আয়োজিত রাজীবের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
যাত্রী অধিকার অন্দোলনের আহ্বায়ক কেফায়েত শাকিল বলেন, ‘রাজধানীর গণপরিবহনগুলোর চালকেরা এতটাই বেপরোয়া হয়েছে যে মানুষের প্রাণ এখন তাদের কাছে কিছুই না। তারা রাস্তায় মানুষের জীবন নিয়ে প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। যার জ্বলন্ত প্রমাণ কলেজছাত্র রাজীব হোসেনের মৃত্যু। গৃহবধূ আয়েশা খাতুনের মেরুদণ্ড ভাঙা ও বেসরকারি চাকরিজীবী রুনা আক্তারের পা থেতলে যাওয়া।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বহুদিন ধরে দাবি করে আসছি রাজধানীর পরিবহনে নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তখন ব্যবস্থা নিলে আজ রাজীবকে বলি হতে হতো না।’
এ ছাড়া সিটিং সার্ভিসের নামে যেভাবে মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে তা গলা কাটার সমান উল্লেখ করে কেফায়েত শাকিল আরো বলেন, এ পরিবহনগুলো সন্ত্রাসের চেয়েও বড় সন্ত্রাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদের আজই না রুখা হলে পরিবহন খাতে যে কঠিন অবস্থার সৃষ্টি হবে এর দায় কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।’
এ সময় যাত্রী অধিকার আন্দোলনের পক্ষ থেকে ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো- রাজীব হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। সব সড়কে দুর্ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন করতে হবে, যানজট নিয়ন্ত্রণ, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও যাত্রীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিতে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে হবে, সারা দেশে গণপরিবহনে সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করতে হবে। রাজধানীসহ দেশের নগর-মহানগর ও আন্তঃজেলার গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া দূর পাল্লা পরিবহনে শিক্ষার্থীদের ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় দিতে হবে, নামে-বেনামে চালু হওয়া সিটিং সার্ভিসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিআরটিএ এর অনুমতিক্রমে কিছু স্পেশাল পরিবহন চলাচল করতে পারে, তবে অবশ্যই যথাযত মানের হতে হবে এবং গণপরিবহনের ভাড়া সমতা আনতে হবে। প্রতিটি গাড়িতে ভাড়ার চার্ট রাখতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে শাস্তির ব্যবস্থা রাখতে হবে, পরিবহন নৈরাজ্য বন্ধে বিআরটিএ কে নিয়মত কার্যকর অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যবস্থা করতে হবে।
নারী হয়রানির শিকার হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রাইভেট পরিবহনের চাপ কমাতে উন্নতমানের এসি, নন-এসি সার্ভিস চালু করতে হবে, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য ইনস্যুরেন্স চালু করতে হবে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম, মুখপাত্র মাহমুদুল হাসান শাকুরী, সদস্য মাইন উদ্দিন আরিফ প্রমুখ।