নিজস্ব প্রতিবেদক : বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের প্রথম দিন নব উল্লাসে মেতে উঠবে কোটি বাঙালির হৃদয়।
পহেলা বৈশাখ-১৪২৫ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
সকাল ৯টায় শুরু হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা: নববর্ষ বরণের দিন (শনিবার) সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে চারুকলা অনুষদ থেকে বের করা হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ প্রতিপাদ্য ও মর্মবাণী ধারণ করে অনুষ্ঠিত হবে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা।
নববর্ষ উদযাপনের কমিটি: বাংলা নববর্ষ-১৪২৫ উদযাপন উপলক্ষে গঠিত কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ। কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, মঙ্গল শোভাযাত্রা উপ-কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, শৃঙ্খলা উপ-কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী।
বটতলায় সংগীতানুষ্ঠান: বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানা যায়, সংগীত বিভাগের উদ্যোগে কলাভবন প্রাঙ্গনস্থ বটতলায় শনিবার সকাল ৮টায় শুরু হবে সংগীতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মহসিনা আক্তার খানম প্রমুখ উপস্থিত থাকবেন।
কোনো ধরনের মুখোশ পরা ও ব্যাগ বহন করা যাবে না: আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোন ধরণের মুখোশ পরা ও ব্যাগ বহন করা যাবে না। তবে চারুকলা অনুষদ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে।
বিকাল ৫টার মধ্যে অনুষ্ঠান সমাপ্তি: ক্যাম্পাসে নববর্ষের দিন সকল ধরণের অনুষ্ঠান বিকাল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। আয়োজক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রবেশ করা যাবে। ৫টার পর কোনভাবেই প্রবেশ করা যাবে না, শুধু বের হওয়া যাবে।
ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি নিষিদ্ধ: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে।
যান চলাচল নিষিদ্ধ: নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে কোন ধরণের যানবাহন চালানো যাবে না ও মোটরসাইকেল চালানো সম্পূর্ণ নিষেধ। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় বসবাসরত কোন ব্যক্তি নিজস্ব গাড়ি নিয়ে যাতায়াতের জন্য শুধু নীলক্ষেত মোড় সংলগ্ন গেইট ও পলাশী মোড় সংলগ্ন গেইট ব্যবহার করতে পারবেন।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের নির্দেশনা: নববর্ষের দিন ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মুখস্থ রাজু ভাস্কর্যের পেছনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেইট বন্ধ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আগত ব্যক্তিবর্গ সোহরাওয়াদী উদ্যানে প্রবেশের জন্য চারুকলা অনুষদ সংলগ্ন ছবির হাটের গেইট, বাংলা একাডেমির সম্মুখস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেইট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট সংলগ্ন গেইট ব্যবহার করতে পারবেন এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে প্রস্থানের পথ হিসেবে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট সংলগ্ন গেইট, রমনা কালী মন্দির সংলগ্ন গেইট ও বাংলা একাডেমির সম্মুখস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেইট ব্যবহার করতে পারবেন।
সিসি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপন: নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপন করে তা মনিটরিং করা হবে।
পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা: হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠ সংলগ্ন এলাকা, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন এলাকা, দোয়েল চত্ত্বরের আশপাশ এলাকা ও কার্জন হল এলাকায় মোবাইল পাবলিক টয়লেট থাকবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এছাড়া ক্যাম্পাস এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভাগ, ইনস্টিটিউট, অনুষদের পক্ষ থেকে নানামুখী আয়োজন রয়েছে।

