ঢাকাFriday , 13 April 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পুরান ঢাকায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন

Link Copied!

নিউজ ডেস্ক : আর একদিন পর কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে বঙ্গাব্দ ১৪২৪। শুরু হবে বাংলা নতুনবছর ১৪২৫ সনের পথচলা। বাঙালি জাতি পহেলা বৈশাখ তথা নতুন বাংলা বছরকে বরণ করলেও প্রতিবছরই একটু আলাদা ভাবে বরণ করেন রাজধানীর পুরান ঢাকার বাসিন্দারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার, বংশাল, আরমানীটোলা, তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজার, বেগমবাজার, ঊর্দু রোড, চকবাজার, মোঘলটুলিসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা প্রত্যেক মহল্লা থেকে পহেলা বৈশাখকে বরণ করতে সকালে আলাদা আলাদা র‌্যালি বের করে। এছাড়া বাঘ, মাছ, ময়ূর, বক, দোয়েল, কোয়েলসহ গ্রামবাংলার বিভিন্ন পশুপাখির নৈসর্গিক ছবিতে বিভিন্ন অলিগলি সাজানো হয় । এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও মহল্লাবাসির উদ্যোগে সঙ্গীত, বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পালাগানের আয়োজন করা হয়। পিঠা-পুলি, ইলিশ-পান্তাসহ পুরান ঢাকার ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলতে পুরান ঢাকার বিভিন্ন অলি গলিতে বসে দোকান। এছাড়া মহল্লার বাসিন্দারা বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনকে দাওয়াত দিয়ে পান্তা-ইলিশ,মিষ্টিসহ বিভিন্ন খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মহল্লাবাসী ও গরিব-এতিমদের মধ্যে পান্তা-ইলিশসহ বিভিন্ন খাবার বিতরণ করা হয়।
কথা হয় নয়াবাজারের বাসিন্দা এম কাদের সরদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘একসময় ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ছিল পুরান ঢাকা। পুরান ঢাকা শুধু বাংলারই নয়, উপমহাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কালক্রমে এখানকার উৎসবগুলো নতুন ঢাকার বাসিন্দারা শুরু করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখে পুরান ঢাকায় বিভিন্ন মহল্লা থেকে শোভাযাত্রা বের হবে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজনরা একে অন্যের বাড়ি বেড়াতে যাবে। ইলিশ-পান্তা ও বিভিন্ন ধরণের পিঠা তৈরি করা হবে। বিকেলে দল বেধে বেড়াতে বের হবে সবাই। একসঙ্গে সবাই গাইবে ‘এসো হে বৈশাখ এসো, এসো’। আর রাতে গানের প্রতিযোগিতা হবে। যারা ভাল গান গাইবেন তাদের পঞ্চায়েত কমিটির পক্ষ থেকে পুরস্কার দেওয়া হবে।’
কথা হয় বংশালের বাসিন্দা মিজনুর রহমান সোহানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ পুরান ঢাকার বিভিন্ন গলিতে মিষ্টিজাতীয় খাবারের দোকান বসে। বাতাসা, খই, চিড়া, মুড়ির মোয়া, কদমাসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রি করা হয়। প্রচণ্ড রোদে বরফ দেয়া ঠাণ্ডা শরবত বিক্রি করা হয়। এছাড়া পহেলা বৈশাখে ঘরে ঘরে বানানো হয় সবারপছন্দের যবের ছাতু আর নানা রকমের পুলি-পিঠা।’
তিনি আরো বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বংশাল পুকুর পাড়ে প্রতি বছরের মতো মেলার আয়োজন করা হয়েছে । মেলায় ছোটদের টমটম গাড়ি, বাঁশি, মাটির হাঁড়ি-পাতিল ও ব্যাংক, মাটির ঘোড়া, মাছ, , টিনের তৈরি জাহাজ, কাঁচের তৈরি খেলনা, নানা রংয়ের কাঁচের চুঁড়িসহ বিভিন্ন সামগ্রি বিক্রি করা হয়।’
পুরান ঢাকার মানুষ ভোজনরসিক জানিয়ে আসিফ ইকবাল বলেন, ‘ইলিশ-পান্তার পাশাপাশি জনপ্রিয় বেশ কিছু খাবারের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে পোলাও-বিরিয়ানিসহ বিভিন্ন ধরণের খাবার থাকে। বাকরখানির সঙ্গে ঝাল মাংস, ফিরনি ও মিষ্টি খাওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পুরান ঢাকার হোটেলগুলোতে বিভিন্ন খাবার তৈরি করা হয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভোজন রসিক মানুষদের চাহিদার দিকে খেয়াল রেখে এগুলো তৈরি করা হয়। পুরান ঢাকার খাবারের দোকানগুলোতে সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের ভিড় জমে।’
বৈশাখের প্রচণ্ড গরমে পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে লাচ্ছি, দই ও লেবুর শরবত আর ফালুদা তৈরি করা হয় বলে জানান তিনি ।
এ ব্যাপারে কথা হয় নবাবপুরের বাসিন্দা আবির হায়দার নিরবের সঙ্গে।তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখে সকালে উঠে পুরান ঢাকার রীতি অনুযায়ী শোভাযাত্রা বের করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন পশুপাখির ছবি মহল্লার অলিতে-গলিতে লাগানো হয়। শোভাযাত্রা শেষে আত্মীয়দের নিয়ে পরিবারের সবাই একসঙ্গে পান্তা-ইলিশ, মিষ্টি, দই চিরাসহ বিভিন্ন খাবার খাওয়া হয়। পান্তা-ইলিশ পুরান ঢাকার ঐতিহ্য। এরপরে দলবেধে সবাই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যান এবং বেড়ান।
এ বিষয়ে কথা হয় লক্ষীবাজারের বাসিন্দা সবুজের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ ভোরে উঠে প্রত্যক মহল্লা থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। এরপর পরিবারের সকলে মিলে পান্তা-ইলিশসহ বিভিন্ন রকমের পিঠা-পুলি ও মিষ্টি খান। এরপর সবাই যে যার আত্নীয় ও বন্ধু-বান্ধবের বাসায় বেড়াতে যান।’ তিনি বলেন, ‘দুপুরে ভিক্টোরিয়া পার্কে বৈশাখি গান হবে, তা শুনতে যাবো। আনন্দ-ফূর্তি করে সারাটা দিন কাটিয়ে দেবো।’