আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পিতা হত্যাকাণ্ডের কারণ যেটাই হোক, হিংসা ও সহিংসতা পছন্দ করেন না বলে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন পুত্র কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও কন্যা প্রিয়াংকা গান্ধী।
শনিবার সিঙ্গাপুরে আইআইএম অ্যালুমনাইয়ের এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান। রাহুল বর্তমানে কংগ্রেস পার্টির সভাপতি।
রাজীব গান্ধী হত্যার শিকার হবেন এমনটা পরিবারের সবাই জানতেন উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমরা জানতাম বাবা ও ঠাকুর মা হত্যাকাণ্ডের শিকার হবেন। অপশক্তির সঙ্গে লড়াই করলে আপনাকে মরতে হবে। বাবার হত্যাকান্ডে আমরা কষ্ট পেয়েছি, ক্ষুব্ধ ছিলাম। কিন্তু আমরা কোনো রকম হিংসা পছন্দ করি না তাই আমি ও আমার বোন তাদের (হত্যাকারীদের) ক্ষমা করে দিয়েছি’।
তিনি বলেন, ‘বাবার খুন হওয়ার ঘটনায় আমাদের অনেক কষ্ট আছে। কিন্তু আমরা সহিংসতা চাই না, আমি ও আমার বোন প্রিয়াংকা বাবার খুনিদের ক্ষমা করে দিয়েছি’। রাজীব গান্ধী খুনের নির্দেশদাতা এলটিটি প্রধান ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণের মৃত্যুতে ব্যথিত হয়েছেন বলেও জানান কংগ্রেস নেতা রাহুল।
১৯৯১ সালে দক্ষিণ ভারতে এক নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন রাজীব গান্ধী। প্রভাকরণের নির্দেশে এলটিটির এক নারী গেরিলা এই আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। ঘটনাস্তলেই রাজীব মারা যান।
এর আগে ১৯৮৪ সালের অক্টোবরে নিজের নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে খুনের শিকার হন সে সময়কার ভারতের নেত্রী ইন্দিরা গান্ধী। শ্রীলংকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে তামিল বিদ্রোহীদের যুদ্ধ চলাকালীন ২০০৯ সালে প্রভাকরণকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ।
জাতিসংঘের শ্রীলংকায় তামিল বিদ্রোহীদের সঙ্গে কয়েক দশকের যুদ্ধে অন্তত এক লাখ এলটিটি সদস্য প্রাণহানির শিকার হয়েছেন।

