নিজস্ব প্রতিবেদক : বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের যে নীতি, সে অনুযায়ী বিজেএমসির পাটকলগুলো ২০১২ সালেই বন্ধ হয়ে যেত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কৃপায় এ পাটকলগুলো এখনো চলছে।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। ৬ মার্চ জাতীয় পাট দিবস উদযাপন উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মির্জা আজম বলেন, পাটকল বন্ধ হয়ে গেলে পাটের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বেসরকারি খাতে চলে যাবে। এতে করে কৃষকরা লোকসানে পড়বে। কৃষককে বাঁচাতে, পাটকলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪ কোটি মানুষের জন্য এই সেক্টরে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিজেএমসি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এটি লোকসান করলেও সরকার দেখবে। কিন্তু বিজেএমসিকে যদি বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে পাট খাত পুরোপুরি বেসরকারি খাতে চলে যাবে। ফলে শ্রমিকরা তখন সংকটে পড়বে। কারণ মোট পাটের ৮ শতাংশ হচ্ছে বিজেএমসির। আর বিজেএমসিকে ব্যর্থ করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র সব সময়ই ছিল। এটাকে ব্যর্থ করার জন্য দুর্নীতি প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এতকিছুর পরও আমরা সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
৬ মার্চ দেশে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় পাট দিবস উদযাপন করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দিবসটি উপলক্ষে ৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পাট দিবসের মূল অনুষ্ঠান হবে। এ ছাড়া ৬ থেকে ৮ মার্চ মোট তিন দিনব্যাপী পাটপণ্য মেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাট ও পাটজাত পণ্যদ্বারা বর্ণিল আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হবে।
‘প্রচারণার জন্য ব্যাপক সংখ্যক পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে। পাট দিবসের গুরুত্ব এবং পাটসংক্রান্ত বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সারা দেশে স্কুল পর্যায়েরর শিক্ষার্থীদের মধ্যে রচনা প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করা হয়েছে’, যোগ করেন মির্জা আজম।
তিনি আরো বলেন, জাতীয় পাট দিবস ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের এ মেলা পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী, বিপণনকারী, ব্যবহারকারী এবং দেশি-বিদেশি সব ক্রেতাদের মধ্যে অধিক যোগাযোগ স্থাপনে সহায়ক হবে। ঐতিহ্যবাহী সোনালী আঁশ আমাদের সমৃদ্ধিকে তরান্বিত করবে বলেও আমি বিশ্বাস করি।

