নিউজ ডেস্ক : খুলনাঞ্চলের আমানতকারীরা এখন ব্যাংক ছেড়ে ডাকঘরের দিকে ঝুঁকছে। প্রতিটি ব্যাংকের শাখা থেকে বছরে কমপক্ষে কোটি টাকার আমানত তুলে নিচ্ছে।
ব্যাংকিং সূত্র জানায়- ভ্যান চালক, মুদি দোকানি, রাজমিস্ত্রি, কৃষি শ্রমিক, জেলে ও প্রান্তিক চাষি শ্রেণির আমানতকারীরা প্রতি মাসেই তুলে নিচ্ছে তাদের ব্যাংকে জমানো টাকা। শ্রমজীবী শ্রেণির এসব মানুষ ব্যাংকের টাকা তুলে ডাকঘর থেকে সঞ্চয়পত্র কিনছে। তাদের ভাষ্য, ব্যাংকের চেয়ে ডাকঘরের সঞ্চয়পত্রে মুনাফা বেশি।
১৯৯০ সালের পর থেকে উপজেলা পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের শাখা বাড়তে থাকে। শ্রমজীবী মানুষের অর্জিত অর্থ নিরাপদে রাখতে ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে শুরু করে। উপজেলা পর্যায়ে এখন প্রতিটি ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকের সংখ্যা গড়ে ৮ হাজার।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের খুলনার তেরখাদা শাখার ব্যবস্থাপক শেখ হায়দার আলী জানান, ব্যাংকে মুনাফার পরিমাণ কম থাকায় আমানতকারীরা টাকা তুলে ডাকঘর থেকে সঞ্চয়পত্র কিনছেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৬ সালে এ শাখায় ৮ হাজার ৬৯০ জন গ্রাহকের আমানতের পরিমাণ ছিলো ১৪ কোটি ৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। ২০১৭ সালের অক্টোবরে ৮ হাজার ২০৫ জন গ্রাহকের আমানতের পরিমাণ ১৩ কোটি ৫০ লাখ। গেল মাসে তিনজন গ্রাহক কমে গেছে। গত বছরের শেষ দিকের তুলনায় ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমানতকারীরা ২৩ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে।
কৃষি ব্যাংকের ডুমুরিয়া শাখার কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, ১৮ হাজার গ্রাহকের আমানতের পরিমাণ ৩৫ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে গ্রাহকরা প্রায় ১ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। এই কর্মকর্তা স্বীকার করেন নতুন করে কোন গ্রাহক হচ্ছেনা।
ব্যাংকের পাইকগাছা শাখার ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম জানান, উপজেলার লস্কর, লক্ষীখোলা ও গদাইপুর গ্রামের আমানতের পরিমাণ কমেছে। ২০১৬ সালে এই শাখার ১০ হাজার গ্রাহকের আমানতের পরিমাণ ছিল ১৯ কোটি টাকা। এ শাখার বর্তমান আমানতের পরিমাণ ১৭ কোটি টাকা।
ব্যাংকের খুলনা অঞ্চলের উপ-মহাব্যবস্থাপক টিপু সুলতান জানান, আমানতকারীরা সুদের পরিমাণ বেশি প্রত্যাশা করে। জমানো টাকার সুদের পরিমাণ যেখানে বেশি হবে আমানতকারীরা সেদিকে ঝুঁকে পড়ে। ব্যাংক বছরে সর্বোচ্চ শতকরা সাড়ে ৫ টাকা সুদ দিয়ে থাকে। সঞ্চয়পত্রে লাভ বেশি।
খুলনা ডাক বিভাগের সিনিয়র পোস্ট মাস্টার জানান, শ্রমজীবী মানুষ ব্যাংকে এক লাখ টাকা জমা রেখে মাসে ৩৩০ টাকা সুদ পায়। সেক্ষেত্রে ডাকঘরে লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্রে মাসে লাভের পরিমাণ ৯১২ টাকা। সে কারণে ডাক ঘরের দিকেই ঝুঁকছে গ্রাহকরা।
রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের ভ্যান চালক রমজান আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, ব্যাংকে খুব বেশি লাভ না পাওয়ায় সেখান থেকে টাকা তুলে ডাকঘরে সঞ্চয়পত্র কিনেছেন। এতে এখন বেশি লাভ পাচ্ছেন।

