ঢাকাSaturday , 10 February 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অপরিকল্পিত নির্মাণযজ্ঞ তৈরি করছে কংক্রিটের জঙ্গল

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : অপরিকল্পত ও সমন্বয়হীন নির্মাণযজ্ঞের কারণে সারাদেই ইট-কংক্রিটের জঞ্জালে পরিণত হচ্ছে বলে একটি সংলাপে মত দিয়েছেন আলোচকরা।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) ও নগর উন্নয়নে সাংবাদিক ফোরাম, বাংলাদেশ আয়োজিত ‘নগরউন্নয়ন পরিকল্পনায় সাংবাদিকতার ভূমিকা’ শীর্ষক পরিকল্পনা সংলাপে এই অভিমত উঠে আসে।
শনিবার রাজধানীর বাংলামোটর সংলগ্ন প্ল্যানার্স টাওয়ারে এ বিআইপি সম্মেলন কক্ষে এই সংলাপ হয়। এতে সভাপত্বি করেন, বিআইপির সহসভাপতি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আকতার মাহমুদ। সঞ্চালনা করেন বিআইপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান। মূল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ডেইলি স্টারের সিনিয়র রিপোর্টার তৌফিক আলী।
ধারণাপত্রে ঢাকা শহরের বাসযোগ্যতা হারানোর পেছনের কারণ হিসেবে সরকারের সঠিক পরিকল্পনার অভাব, সঠিক পরিকল্পনাগুলোকে কেটেছিড়ে তছনছ করা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাবশালীদের সঙ্গে সরকারের জনস্বার্থবিরোধী আপসরফাকে দায়ী করা হয়।
মূল ধারণাপত্রে তৌফিক আলী বলেন, ৯৫ পরবর্তী সময় উন্নয়নের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সমঝোতার রাজনীতি করে ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন করে হাউজিং কোম্পানিগুলোকে লাভবান করেছে।
অপরিকল্পিত ও সমন্বয়হীন উন্নয়নের কারণে রাজধানীর কী পরিণতি হয়েছে সেটা দেখে শিক্ষা নেয়ার কথাও বলেন বক্তারা। এখনই সোচ্চার না হলে রাজধানীর মতো পুরো দেশেই একই পরিণত হবে বলেও সতর্ক করেন তারা।
সংলাপে রাজধানীতে রেল যোগাযোগ বৃদ্ধি, শহরের বিকেন্দ্রীকরণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, খাল-নদী-জলাশয় রক্ষাসহ বিভিন্ন পরমার্শ উঠে আসে।
বিশেষ করে তুরাগ-বালু-বুড়িগঙ্গা-ধলেশ্বরী নদী দূষণের বিষয়টি উঠে আসে। বক্তারা বলেন, পানির মান ঠিক না করে অর্ধশত কিলোমিটার দূর থেকে রাজধানীতে পানি আনায় বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ ওই টাকা দিয়ে এসব নদীকে ভাল করে নগরীতে পানি সরবরাহ করা সম্ভব ছিল। এতে রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোও বাঁচত।
রাজধানীর জলাশয়-খালগুলোকে ধ্বংস করা, অনৈতিকভাবে একের পর এক আবাসন কোম্পানির অনুমোদন দেয়ার সমালোচনাও করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে বিআইপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান বলেন, ‘এক সময় বুড়িগঙ্গার পানি হাতে নিয়ে পান করা যেত। এখন সেই বুড়িগঙ্গার পাশ দিয়ে নাকে রুমাল দিয়ে হাঁটতে হয়।’
সভাপতির বক্তব্যে আখতার মাহমুদ বলেন, ‘সরকারি যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হয়, সেগুলো কতটা সফলতা পেল সে বিষয়ে কোনও অডিট হয় না। এগুলো অডিটের আওতায় এনে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। কারণ প্রকল্পের নেওয়ার পর অপ্রয়োজনেও তা বাড়ানো হয়।’
বিআইপির সহসভাপতি ফজলে রেজা সুমন বলেন, ‘নগরায়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে ৩.৩ শতাংশ হারে। এই হারে আগালে আগামী তিন দশকে ঢাকার জনসংখ্যা তিনগুণ বেড়ে যাবে। ভূমি ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ নিয়ে ভূমির ব্যবহারের পরিবর্তন করিয়ে ফয়দা লুটছে। প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজ আমলা ও সমঝোতার রাজনীতি অপরিকল্পিত নগরায়নের জন্য দায়ী।’
অনুষ্ঠানে বিআইপি ও নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে নগর বিষয়ক প্রতিবেদনের ওপর কয়েকটি শাখায় সেরা রিপোর্টের পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। প্রতি বছরের ৮ নভেম্বর নগর পরিকল্পনা দিবসে এ পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
সংলাপ অনুষ্ঠানে বিআইপির সহ সভাপতি ফজলে রেজা সুমন বলেন, ‘নগর উন্নয়নে সাংবাদিকরা ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য লিখতে গিয়ে অনেক রিপোর্টারদের নানা প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়।’
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন নগর উন্নন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অমিতোষ পাল, সাধারণ সম্পাদক মতিন আব্দুল্লাহ প্রমুখ।