নিজস্ব প্রতিবেদক : সব অর্জন হচ্ছিল। প্রাপ্তির খাতা ভরে উঠছিল একাধিক সাফল্যে। এক পা, দু পা করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের অবস্থান জানাচ্ছিল বাংলাদেশ।
দেশের ঝাণ্ডা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ওড়ানোর উপলক্ষ বারবার করে দিচ্ছিলেন মাশরাফি, সাকিব, মুশফিকরা। কিন্তু বৈশ্বিক, মহাদেশীয় কিংবা তিন-চার জাতির টুর্নামেন্ট জেতা হচ্ছিল না বাংলাদেশের। আজও সেই প্রাপ্তির খাতায় পড়ল না কলমের কালি। দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের। ৭৯ রানের হারে বাংলাদেশ আবারও নিজেদের আক্ষেপ বাড়াল।
এর আগে মিরপুরে তিনবার ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। ওয়ানডে ফরম্যাটে দুবার। দুই ওয়ানডেতেই জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়ে ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। এবারও সেই একই পরিণতি?
ভাগ্য পাল্টাল না বাংলাদেশের। জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে বাংলাদেশ আবারও আশাহত করল সেই মিরপুরেই। ২০০৯ এর ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনাল, ২০১২ এর এশিয়া কাপের ফাইনাল যেন ঘুরেফিরে বাংলাদেশকে আটকে রাখছে অপ্রত্যাশিত এক মায়ায়। যেই মায়ায় বন্দী টাইগাররা।
আগের চার ম্যাচের চারটিতেই টস জয় মাশরাফির। কিন্তু আজ মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস জিতল শ্রীলঙ্কা। সফরকারীরা ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুর্দান্ত শুরুর পরও ২২১ রানের বেশি করতে পারেননি। জবাবে বাংলাদেশ আটকে গেল ১৪২ রানে।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় দুঃসংবাদ বাংলাদেশ শিবিরে। ফিল্ডিংয়ে বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে চোট পেয়ে ৪২তম ওভারের প্রথম বলে মাঠ ছাড়া সাকিব ব্যাটিং করতে পারবেন না। তামিমের ওপর ছিল বড় দায়িত্ব। কিন্তু প্রথম তিন ম্যাচে তিন ফিফটি তুলে আশা দেখানো তামিম ১৮ বলে ৩ করেই সাজঘরে। পেসার দুশমন্থর হাতে জীবন পেয়ে তার বলেই আউট তামিম।
এনামুলের বদলে ওপেনিংয়ে আসা মিথুন এক ছক্কায় আশা দেখালেও রান আউটে ফিরেন সাজঘরে। সাব্বির রহমান সাকিবের পরিবর্তে তিনে এসে আরও একবার ব্যর্থ। চামিরার বলে পুল করতে গিয়ে ২ রানেই নেই সাব্বির। ২২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লে’র সুবিধা কাজে লাগাতে না পারায় ১০ ওভারে রান মাত্র ২৬।
মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ দায়িত্ব নেন নিজেদের কাঁধে। আগের ম্যাচগুলোতে হতাশ করা মাহমুদউল্লাহ আজ চালকের আসনে। থমকে যাওয়া রানের চাকা একাই টেনে তুলেন মাহমুদউল্লাহ। ৫৮ রানের জুটি মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর। কিন্তু সেই মুশফিক ‘ভায়রাকে’ রেখে ফিরলেন বাজে এক শটে। স্পিনার আকিলা ধনঞ্জয়ার বলে সুইপ করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে থারাঙ্গার হাতে ক্যাচ মুশফিকের (২২)। তাতেই সব শেষ বাংলাদেশের!
মিরাজ-সাইফ উদ্দিনকে নিয়ে লড়াই করে মাহমুদউল্লাহ যোগ করেন ১০ ও ৩৭ রান। মিরাজ ১৪ বলে ৫ করে কট এন্ড বোল্ড ধনঞ্জয়ার হাতে। আর সাইফ উদ্দিন ২৯ বলে ৮ করে রান আউট। ততক্ষণে মাহমুদউল্লাহ ক্যারিয়ারের ১৮তম ফিফটি তুলে নেন ৭০ বলে।
এরপর আর পারেনি বাংলাদেশ। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে মাহমুদউল্লাহ ৭৬ রানে আউট হলেন আর হ্যাটট্রিক উপহার দিলেন মাদুশানাকাকে। ৪২তম ওভারের প্রথম বলে মাহমুদউল্লাহকে ফেরানোর আগে ৪০তম ওভারের পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে তার শিকার মাশরাফি ও রুবেল।
এর আগে উপুল থারাঙ্গারা ৫৬, নিরোশান ডিকাভেলার ৪২ ও দিনেশ চান্দিমালের ৪৫ রানের সুবাদে ফাইনালের লড়াকু ২২১ রানের পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা। ২০০৯ এর ত্রিদেশীয় ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে শিরোপা ‘উপহার’ দেওয়া রুবেল আজ সেই একই মঞ্চে ৪ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ধসিয়ে দিয়েছেন।
তার দুর্দান্ত পেস, নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মিডল অর্ডারে মূল ধাক্কাটা হজম করে শ্রীলঙ্কা। বল হাতে ২টি উইকেট নেন মুস্তাফিজুর রহমান। ৪৯ উইকেট নিয়ে মাঠে নেমে আজ দ্রুততম ৫০ উইকেটের কীর্তি গড়েছেন বাঁহাতি পেসার। ব্যাটিংয়ে ভালো করতে না পারা মিরাজ বোলিংয়ে ৫৩ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট। তার এক ওভারেই লঙ্কানরা তুলেছিল ২৪ রান। বড় ম্যাচে এ পার্থক্যগুলোই বড় ব্যবধান গড়ে দেয়।
ফিল্ডিংয়ে ৪২তম ওভারের প্রথম বলে সাকিব ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়েন। ব্যাটিংয়ে ৪২তম ওভারের প্রথম বলেই শেষ বাংলাদেশের ইনিংস। বলার অপেক্ষা রাখে না সাকিবেই শেষ শিরোপার স্বপ্ন।
২০০৯ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কার কাছে ২ উইকেটে, ২০১২ সালে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের কাছে ২ রানের ক্ষত ভুলতে পারেনি বাংলাদেশ। এবারের হার বাড়াচ্ছে আফসোসও। আফসোস সাকিবের না থাকাটা।

