নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জে হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে মেয়র আইভীর ওপর হামলা-সংঘর্ষের সময় নিয়াজুল ইসলাম খানের খোয়া যাওয়া পিস্তলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে নগরীর চাষাঢ়ায় একটি চার্জের ফুলের বাগান থেকে গুলিভর্তি পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশ এখনো নিয়াজুলকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এ ব্যাপারে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরফুদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে নগরীর চাষাঢ়ায় সেইন্ট পলস চার্চের সামনে একটি ফুলের টবে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় অস্ত্রটি পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘পিস্তলের ম্যাগাজিনে ১০ রাউন্ড গুলি ছিল। অস্ত্রটি উদ্ধার হলেও নিয়াজুলকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সম্প্রতি ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নামলে হকারদের পক্ষে নেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান। হকারদের বসতে না দিলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তিনি। এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে গত ১৬ জানুয়ারি বিকেলে মেয়র আইভী নিজের সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করে চাষাঢ়া এলাকায় গেলে সেখানে শামীম ওসমানের অনুসারী নিয়াজুল অস্ত্র উচিয়ে আইভীকে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় সংঘর্ষে মেয়র আইভীসহ অর্ধশতাধিক আহত হন।
ওই ঘটনার সময় নিয়াজুলসহ কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। পিস্তল উঁচিয়ে তেড়ে আসা নিয়াজুলকে ধরে পিটুনি দেয় আইভী সমর্থকরা।
একসময় যুবলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকা নিয়াজুলকে চাষাঢ়ার মানুষ চেনে সংসদ সদস্য শামীমের অনুসারী হিসেবে। শামীম ১৯৯৬ সালে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরই নিয়াজুল অস্ত্রের লাইসেন্স পান বলে স্থানীয়দের দাবি। ১৯৮৮ সালের জোড়া খুনের মামলার আসামি নিয়াজুলের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ভূমি দখলে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।

