ঢাকাFriday , 1 December 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গফরগাঁওয়ে পানির কষ্টে ১০ হাজার শিশু শিক্ষার্থী!

Link Copied!

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : গফরগাঁওয়ের দক্ষিণ অংশের প্রায় ৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। এসব বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ১০ হাজারের বেশি শিশু শিক্ষার্থী ও কর্মরত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। আবার অনেক বিদ্যালয়ে পানির পাম্প, ট্যাংক থাকলেও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় সেগুলো কোনো কাজে আসছে না।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৫টিতে পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। আবার এমন বিদ্যালয় রয়েছে যেগুলোর কাছাকাছি বসতি নেই। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে পাত্র দিয়ে পানি সংগ্রহ করে থাকে। গ্রীষ্মকালে পানির কষ্ট তীব্র হয়। তখন পানির পিপাসা মেটাতে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা কৃত্রিম রং দেওয়া আইসক্রিম ও চকলেট খেয়ে পেটের পীড়ায় ভোগে।
সম্প্রতি উপজেলার দাওয়া দাইর উত্তর, হাওয়াখালী, দত্তন্নপাড়া, ডুবাইল, টাঙ্গাব দক্ষিণপাড়া, দেওলপাড়া, বারইহাটি-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, সেখানে খাবার পানির কোনো উৎস তো নয়ই, এমনকি আশপাশে জলাশয়ও নেই। প্রাকৃতিক কাজ সারতেও বিপাকে পড়তে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
দত্তন্নপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলরুবা আক্তার জানান, তার বিদ্যালয়ে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২৪২ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। বিদ্যালয়ে পানির জন ছাত্র-ছাত্রীসহ শিক্ষকদের কষ্টের কথা তারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।
বামনখালী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিয়া আক্তার, আকলিমা খাতুন, সৈকত, সজীব জানায়, মাঝে মাঝে পানির পিপাসায় ক্লাস বাদ দিয়ে অদূরের বসতবাড়ি গিয়ে তৃষ্ণা মেটাতে হয়। সুপেয় পানির অভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যায় পড়ছে। স্কুলে টিউব ওয়েল বসাতে সরকারের কাছে দাবি জানায় তারা।
দক্ষিণ চরমছলন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে ৪৪৮ জন শিক্ষার্থী। প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন জানান, তার বিদ্যালয়ের এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর সুপেয় পানির জন্য একটি টিউবয়েল থাকলেও বছরের অধিকাংশ সময় তা বিকল থাকে। তিনি বলেন, ‘এমন অনেক বিদ্যালয় রয়েছে যেখানে একটির স্থলে দুটি ওয়াশ ব্লক রয়েছে। অথচ তার বিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলেও এখানে ওয়াশ ব্লক স্থাপন করা হয়নি।’
শিক্ষার্থীদের পানির সমস্যাটি নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. নূরুল ইসলাম বলেন, যেসব বিদ্যালয়ে পানির ব্যবস্থা নেই সেগুলোর নামের তালিকা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পানি সংকটের কথা স্বীকার করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর গফরগাঁও কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইদুল ইসলাম খান জানান, খুব শিগগির ৩২টি বিদ্যালয়ে পানির পাম্প ও ট্যাংক স্থাপন করা হবে। বাকি বিদ্যালয়গুলোতে আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে সুপেয় পানির ব্যবস্থা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।