ঢাকাThursday , 4 September 2014
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ শতাধিক বাড়ি নদীগর্ভে

Link Copied!

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সদর উপজেলা, কাজিপুর ও চৌহালীর প্রায় ২৫০ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ প্রায় তিন শতাধিক বাড়িঘর ও আবাদী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কবলে নিঃস্ব হয়ে গেছে দুই শতাধিক পরিবার। এ ছাড়াও বন্যায় জেলার প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা আসন্ন জেএসসি পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।SIRAJGONJ-2

অন্যদিকে, ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এনায়েতপুর স্পার বাঁধের ৩৫ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে ১২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালসহ বিশ্ববিদ্যালয়, খাজা এনায়েতপুরীর (র.) মাজার, বহুতল মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট ও তাঁত কারখানাসহ অসংখ্য ঘর-বাড়ি। এছাড়া চৌহালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের অধিকাংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। যেকোনো মূহুর্তে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুর এক কিলোমিটার রিং বাঁধের পুরোটাই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া গত ২৯ আগস্ট কাজিপুর উপজেলার মেঘাই রিং বাঁধের ৩৫ মিটার, ১ সেপ্টেম্বর এনায়েতপুরের আজুগড়া-বেতিল স্পার বাঁধের ৮০ মিটার, সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মালশাপাড়া চায়না ক্রস বাঁধের ৮০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে ভাঙনের মুখে পড়েছে সাত উপজেলার নদীর তীরবর্তী এলাকা।

বন্যায় সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের ৮২টি ইউনিয়নের প্রায় ৬০টি ইউনিয়নে পানি প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে খোকশাবাড়ি, রতনকান্দি, ছোনগাছা, মেছড়া, কাওয়াখোলা, কালিয়া হরিপুর ও সয়দাবাদ ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম। কাজিপুর উপজেলার মাইজবাড়ী, কাজিপুর সদর, শুভগাছা, গান্ধাইলের আংশিক, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ, নাটুয়ারপাড়া, খাসরাজবাড়ী ও মনসুরনগর ইউপির প্রায় ৯০টি গ্রাম। শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি, জালালপুর, গালা, সোনাতনি ইউনিয়নের ৩০টি গ্রাম, চৌহালী উপজেলার সোদিয়া চাদপুর, ওমরপুর, স্থল, খাস কাউলিয়া ও খাস পুকুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এ ছাড়া যমুনা ও করতোয়ার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উল্লাপাড়ার উধুনিয়া, বড় পাঙ্গাসী, লাহিড়ী, মোহনপুরের কালিয়াকৈর, সুজা, বংকিরাট, বাঙ্গালা, সলপ ও পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের প্রায় ৬০টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

তাড়াশ উপজেলার চলনবিল অধ্যুষিত প্রায় সব ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামসহ নয় উপজেলার প্রায় ৫০টি ইউনিয়নের চার শতাধিক গ্রামসহ জেলায় এবারের বন্যায় ৬৩৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে জেলার তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। বন্যার্ত এই পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও সরকারি পরিত্যক্ত জায়গায়।SIRAJGONJ-3

এসব এলাকার শতাধিক হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। ফলে ক্ষতির মুখে পড়ছে কৃষকেরা। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা।

অন্যদিকে, শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়াসহ জেলার অন্যান্য এলাকার গো চারণ ভূমি তলিয়ে থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন খামারিরা।

যমুনার পানি কমতে শুরু করলেও সাত উপজেলার ৫০টি ইউনিয়নের তিন লক্ষাধিক মানুষ এখনো পানিবন্দি রয়েছে। বন্যায় তলিয়ে গেছে এসব উপজেলার প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমির ফসল।

এদিকে, বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. বিল্লাল হোসেন জেলার বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘বন্যা কবলিত পাঁচটি উপজেলায় পৃথক কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। এসব উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জরুরি আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে ২০টি অস্থায়ী টিউবওয়েল এবং ১০টি অস্থায়ী সেনেটারি ল্যাট্রিন স্থাপন করেছে। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ‘মেঘাই’ যমুনা ঘাটে স্থাপন করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সদর উপজেলা, কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালী উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১১ হাজার ৭৩৪টি ঘরবাড়ি আংশিক এবং ১৯ হাজার ২৪টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিন হাজার ৮০১ হেক্টর ফসলি জমি, ৪৮ চার হাজার ৩৭২টি পরিবার, ১৫৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

এসব পরিবারের মাঝে কলেরা স্যালাইন, খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি, নগদ টাকা, চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বন্যার্তদের সহযোগিতায় এখনো চার লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ১৫০ টন জিআর চাল মজুদ রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া জেলা সিভিল সার্জন বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করেছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সিরাজগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না, শাহজাদপুর আসনের সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন, বেলকুচি-চৌহালী আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ মণ্ডল ও জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড বিশেষায়িত শাখার (বিআরই) নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম জানান, যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে। দুই একদিনের মধ্যেই মানুষের দুর্ভোগও কাটতে শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, এনায়েতপুর সলিড স্পারে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে পাথর ফেলা হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে ভাঙন ঠেকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।