জাবি সংবাদদাতা : বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী এখন হেমন্ত। শীত আসতে এখনো বেশ বাকি। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে এখন শীতের আবহ। সন্ধ্যা নামতেই কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে সবুজ ক্যাম্পাস। অন্যদিকে আসতে শুরু করেছে শীতের অতিথি পাখি।
সপ্তাহ দুয়েক আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেক ও পরিবহন চত্বর সংলগ্ন লেকে দেখা মিলছে অতিথি পাখিদের ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডজন খানেক লেকের মধ্যে সাধারণত প্রতি বছর ৪টি লেকে অতিথি পাখি বেশি দেখা যায়। এগুলো হচ্ছে- পরিবহন চত্ত্বর সংলগ্ন লেক, রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেক, সুইমিং পুল সংলগ্ন লেক এবং ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের ভেতরের লেক।
১৯৮৬ সালে সর্ব প্রথম জাবি ক্যাম্পাসে অতিথি পাখি দেখা যায়। এর পর থেকে প্রায় প্রতিবছরই ক্যাম্পাসে অতিথি পাখি আসে। এ পর্যন্ত ক্যাম্পাসে প্রায় ১৯৫ প্রজাতির পাখি দেখা গেছে। এর মধ্যে অতিথি পাখি ৬৯ প্রজাতির। বাকি ১২৬ প্রজাতি দেশীয় পাখি। গত বছর ক্যাম্পাসে অতিথি পাখি আসে ৫ প্রজাতির জলজ সহ মোট ৪৭ প্রজাতির।
এখানে হিমালয়ের উত্তর দিকের দেশ বিশেষ করে সাইবেরিয়া থেকে অতিথি পাখি আসে। এসব পাখির মধ্যে রয়েছে- সরালি, ল্যাঞ্জা হাঁস, খুঁনতে হাঁস, বালি হাঁস, মানিকজোঁড় প্রভৃতি।
প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সকল পাখি আসে তার সবই অতিথি নয়। জলজ সহ অনেক দেশীয় পাখি আসে। যেগুলোর কোন কোনটি অতিথি পাখির সাথে মিশে যায়। ফলে আমরা তাদেরকে অতিথি পাখি ভেবে থাকি। আবার দেখা যায় কোনটি একবার আসে পরে আর আসে না। সাধারণত খাদ্যের নিশ্চয়তা, শিকারীর উপদ্রব না থাকায় এখানে পাখিরা ভিড় জমায়।’

