ঢাকাSaturday , 30 September 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ড্যারেল হেয়ার বিতর্কিত না নির্ভীক!

Link Copied!

স্পোর্টস ডেস্ক : আম্পায়ার ড্যারেল হেয়ারের কথা মোটামুটি সবারই জানা। মুত্তিয়া মুরালিধরন অন্তত যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন হেয়ারকে কোনোদিনও ভুলতে পারবেন না!
সাদা পোশাকে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক মুরালিধরন ক্যারিয়ার শেষ করেছিলেন ৮০০ উইকেট নিয়ে। অথচ তার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারত লাইমলাইটে আসার আগেই। মুরালিধরনকে ‘শেষ’ করে দিতেন সেই ড্যারেল হেয়ার। কিভাবে?
লঙ্কান গ্রেট অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৯৯৫ সালে বক্সিং ডে টেস্টে খেলছিলেন মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। টানা বল করে যাচ্ছিলেন মুরালিধরন। আর একটু পরপরই নো বল ডাকছেন আম্পায়ার। সেদিন মুরালিধরনের বলে সাতবার নো বল ডাকেন হেয়ার। অস্ট্রেলিয়ান আম্পায়ারের এমন সিদ্ধান্তে ক্রিকেট দুনিয়ায় সোরগোল পড়ে গিয়েছিল।চাকারদের বিরুদ্ধে আম্পায়ারিংয়ের শুরু থেকেই সোচ্চার ছিলেন হেয়ার। তাই মুরালিধরনের বল নো ডাকতেও ভয় পাননি।
ক্রিকেট বিজ্ঞদের মতে,‘ওটি ক্রিকেট ইতিহাসের একটি কালো দিন।’ ওই টেস্ট মাঠে থেকে দেখেছিলেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। হেয়ারের আম্পায়ারিং দেখে ব্র্যাডম্যান মন্তব্য করেছিলেন,‘সবচেয়ে বাজে আম্পায়ারিং দেখলাম আজ। পরিস্কারভাবেই মুরালি বল থ্রো করছিল না।’
শুধু মরালিধরন নয় অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটেও হরহামেশাই স্পিনারদের বল নো ডেকে বসতেন হেয়ার। কারণ একটাই হেয়ার ছিলেন নির্ভীক! স্পিনারদের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে ওই সময়ে মাতামাতি করতেন না আম্পায়াররা। কিন্তু হেয়ার ছিলেন ভিন্ন। স্রোতের বিপরীতে গিয়ে মাঠে দাঁড়িয়ে নিজের সিদ্ধান্ত দিয়ে দিতেন। এজন্য ‘বিতর্কিত’ আম্পায়ারিংয়ের খেতাবও পেতে হয় তাকে। তার ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্তেই কাঠগড়ায় দাঁড়ান মুরালিধরন। তবে প্রায় দুই দশক পর অফস্পিনারদের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আইসিসির যুদ্ধকে কি বলবেন? হেয়ার ১৯৯৫ সালে যা শুরু করেছিলেন ২০১৪ সালে সেটাই শুরু করে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
অবৈধ অ্যাকশনের দায়ে শ্রীলঙ্কার সচিত্রা সেনানায়েকে, পাকিস্তানের সাঈদ আজমল ও মোহাম্মদ হাফিজ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনীল নারিন, ভারতের আদনান রাসুল, সূর্যকুমার যাদব, প্রেনেলান সুব্রায়েন, নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন, জিম্বাবুয়ের প্রসপার উতসেয়া, বাংলাদেশের সোহাগ গাজীকে নিষিদ্ধ করা হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে। যদিও এখন প্রত্যেকে আইসিসির ছাড়পত্র পেয়েছে। তবে অ্যাকশন শুধরে তাদের পেতে হয়েছে বৈধ ছাড়পত্র।
বরারই হেয়ার বলে এসেছেন,‘আম্পায়ারদের দুর্বলতার কারণেই চাকিংয়ের মাত্রা বেড়েছে।’ নির্ভীক হেয়ার ছিলেন ব্যতিক্রম। কিন্তু তার সিদ্ধান্তগুলোর কারণে তিনি হয়েছিলেন বিতর্কিত। আইসিসি বর্তমানে যে লড়াই করছে সেই লড়াইয়ের শুরুটা তো নিজ থেকেই করেছিলেন ড্যারেল হেয়ার। ৬৫ বছর বয়সি হেয়ার কি তাহলে বিতর্কিত না নির্ভীক।
আজ হঠ্যাৎ তাকে নিয়ে আলোচনা কেন? ১৯৫২ সালে আজকের দিনেই নিউ সাউথ ওয়েলসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ৭৮ টেস্ট ও ১৩৯ ম্যাচে আম্পায়ারিং করা হেয়ার।