অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ভ্যাট আইন-২০১২ পাশ হলেও নতুন অর্থবছরের ২০১৭-১৮ জুলাই থেকে তা বাস্তাবায়ন হতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি প্রার্থী মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন)।
গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে নির্বাচনী সভায় প্যানেল সদস্যদের পরিচয় পর্বের বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। আসন্ন এফবিসিসিআই নির্বাচন ২০১৭-১৯ উপলক্ষে এ সভার আয়েজন করে মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) নেতৃত্বাধীন ‘সম্মিলিত গণতান্ত্রিক পরিষদ’।
শফিউল ইসলাম বলেন, ‘ভ্যাটই ব্যবসায়ীদের বর্তমানের বড় সমস্যা। এই নতুন আইন ব্যবসায়ীদের সামনে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা ব্যবসায়ীদের উপর এ আইন চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন, তা ভালো করেন নাই। এর সঙ্গে আইএমএফ থাকুক আর যেই থাকুক, এ আইন পাশ হলেও বাস্তবায়ন হতে পারবে না।
এ প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সালমান এফ রহমান উপস্থিত এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি আশ্বাস দিতে চাই, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে, যদি আইনটা হয়ও, আমাদের যে সমস্যা রয়েছে, তা সামাধান করা হবে।’
শফিউল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, যদি ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার সুযোগ দেয়া হয়, তা হলে সোনার বাংলা উপহার দেবে এ দেশের ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের কোনো প্রতিষ্ঠানের মুখোমুখি দাঁড়াতে চায় না, একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে চায়। সরকার জনগণের সেবা করে তার অবস্থান থেকে, আমাদের অবস্থান থেকেও সেবা করে থাকি, ব্যবসায়ীরা সকার থেকে আলাদা নয়। রাজনীতিবিদ, আমলা, সরকার এবং ব্যবসায়ী এরা কেউ আলাদা নয়। সবাই এক সঙ্গে এগিয়ে যেতে চায়। তাই আমাদের (ব্যবসায়ীদের) রাস্তায় কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন না।
মুক্ত আলচানায় অংশগ্রহণ করেন সংগঠনটির সাবেক চারজন সহ-সভাপতিসহ ১৪জন ব্যবসায়ী নেতা। প্রায় সবাই নির্বাচনী বক্তব্যের সঙ্গে ভ্যাট সমস্যা সমাধানের জন্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের আহ্বান জানান।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, এফবিসিসিআইয়ের নেতা নির্বাচিত হয়ে আপনার সরকারের মুখপাত্র হবেন না। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য কাজ করার মতো নেতার দরকার। যিনি কাজ করবেন দেশর অর্থনীতি ও ব্যবসায়ীদের জন্য। এফবিসিসিআইকে দেশের অর্থনীতি বলে অভিহিত করেন অনেকে। তাই ব্যবসায়ীদের সুন্দর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেয়ার আহ্বান জানান নেতারা।
সন্ধ্যা ৮ টা ২০ মিনিটে জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠান চলে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানের শুরুতে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পি এন্ডোকিশোর গান পরিবেশন করেন। এরপর দেশের জিডিপিতে অবদান রাখছে ক্ষুদ্র, মাঝরি ও বৃহৎ শিল্পের যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন পদ্ধতির ভিডিও চিত্র তুলে ধরা হয়। মুক্ত আলোচনা শেষে প্যানেল লিডার শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন তার এসোসিয়েশন প্যানেলের ১৮ জন প্রার্থীকে সাধারণ সদস্যদের মাঝে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের যোগ্যাতা ও কর্মদক্ষতার বর্ণনা দেন। সবাইকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।
সম্মিলিত গণতান্ত্রিক পরিষদের পরিচালক প্রার্থীরা হলেন, খন্দকার মঈনুর রহামান জুয়েল, মো. আনোয়ার হোসেন, নিজামউদ্দিন রাজেশ, এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, আমজাদ হোসেন, আব্দুল হক, শাফকাত হায়দার, মো. শফকুল ইসলাম ভরসা, হাফেজ হাজী হারুনুর রশিদ, মো. আবুল আয়েস খান, আবু মোতালেব, শমী কায়সার, মো. মুস্তাকিম আশরাফ, মো. হাবিব উল্ল্যাহ ডন, মো. আবু নাসের, মীর নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ, খন্দকার রুহল আমিন এবং রাশেদুল হোসেন চৌধুরী।

