
১২৭টি গ্রেনেড উদ্ধার হয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার কৈলাশহরে মাটির নিচে ১২৭টি গ্রেনেডের সন্ধান পাওয়া গেছে। গত রোববার (৭ মে) উদ্ধার হওয়া ওই গ্রেনেডগুলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, ওই এলাকায় মাটির নিচে আরও গ্রেনেড পাওয়া যেতে পারে। এর আগেও মুক্তিযুদ্ধের একাধিক নিদর্শন পাওয়া গেছে ঊনকোটি জেলার বিভিন্ন স্থানে। তবে এতো বিপুল পরিমাণে গ্রেনেড উদ্ধারের নজির আর নেই বলে উল্লেখ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত রোববার বিকেলে একজন শ্রমিক মাটি কাটছিলেন শহরের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের পার্শবর্তী একটি স্থানে। এই স্থানটি জেলার পুলিশ সুপারের অফিস থেকে মাত্র দশ মিটার দূরে। মাটি কাটার সময়ে লোহার টুকরোর মতো কিছু একটা দেখতে পান ওই শ্রমিক। এরপর আরও কিছুটা মাটি কাটতেই বেরিয়ে পরে পাঁচটি গ্রেনেড। এলাকাবাসী তখন থানায় খবর দেন। ছুটে আসে কৈলাশহর থানার পুলিশ। পুলিশ এসে আবারও মাটি কাটতে শুরু করে। এরপর একটার পর একটা গ্রেনেড বের হতেই থাকে। রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত ওই এলাকা থেকে মোট ১২৭টি গ্রেনেড উদ্ধার হয়। এরপর গ্রেনেড উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। আগরতলা থেকে বম্ব স্কোয়াড না আসা পর্যন্ত আর মাটি না কাটতে বলা হয়। সেই অনুযায়ী সাময়িকভাবে অভিযান বন্ধ রাখা হয়।
পুলিশের ধারণা এখান থেকে আরও বেশ কিছু গ্রেনেড উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের ধারণা, এই গ্রেনেডগুলি হয়তো ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জন্য আনা হয়েছিল। কৈলাশহরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর তিনটি সেনা ঘাঁটি ছিল। এই তিনটির মধ্যে একটি ছিল এখানে। যুদ্ধ শেষে ভারতীয় সেনাবাহিনী হয়তো এই গ্রেনেড গুলি এখানে মাটির নিচে পুঁতে গেছে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী শহর কৈলাশহর। প্রায় তিন দিক থেকেই ঘিরে রয়েছে সিলেট জেলা। ফলে কৌশলগত দিক থেকে ভারতের জন্য এই স্থানটি গুরুত্ত্বপূর্ণ ছিল।

