স্পোর্টস ডেস্ক : চ্যাম্পিয়নস লিগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সবশেষ গোল করেছিলেন গত ২৭ সেপ্টেম্বর বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে। এরপর গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে শেষ ষোলোর বাধাও টপকে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু রোনালদো কোনো গোল পাননি টানা ৬৬৯ মিনিট। নিন্দুকেরাও তাই রিয়াল ফরোয়ার্ডকে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ করছিলেন।
কাল রাতে ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে দলের বিপদের সময়ে জ্বলে উঠলেন রোনালদো। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে দল যখন হারের মুখে, তখন দ্বিতীয়ার্ধে রোনালদো করলেন দুই গোল। তার জোড়া গোলেই বায়ার্নকে তাদের মাঠে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই দুই গোলে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইউরোপিয়ান ক্লাব প্রতিযোগিতায় গোলের সেঞ্চুরিও করে ফেলছেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
ম্যাচের পর রোনালদো সংবাদমাধ্যমকে বললেন, তার সত্যিকারের ভক্তরা তার সামর্থ্য নিয়ে কখনোই সন্দেহ করে না, ‘জানি না কারা আমার সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ করে। যারা ক্রিস্টিয়ানোকে ভালোবাসে, তারা কখনো সন্দেহ করেনি। আপনারা আমাকে তাদের নাম বলুন যারা আমাকে নিয়ে সন্দেহ করে। কারণ তারা তো আমার কাছে আসেনি।’
ইউরোপিয়ান ক্লাব প্রতিযোগিতায় গোলের সেঞ্চুরি করে দারুণ খুশি সিআর-সেভেন, ‘আমি খুশি। আমি এই রেকর্ডটা করতে চেয়েছিলাম। এটা অনেক বড় সম্মানের। আর বায়ার্নের মতো দলের বিপক্ষে সেটি করতে পারাটা আরো বড় কিছু।’
প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দল যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তাতেও খুশি রোনালদো, ‘আমি খুশি। দল সত্যিই দারুণভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এখানে কঠিন একটা দলের সঙ্গে খেলাটা সহজ নয়, প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর তো নয়ই। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের অনুভূতি ভালো ছিল।’
এদিন আরো গোল পেতে পারতেন রোনালদো। তার দুটি প্রায় নিশ্চিত গোল দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দিয়েছেন বায়ার্নের জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার। করিম বেনজেমা ও গ্যারেথ বেলের দুটি প্রচেষ্টাও রুখে দেন তিনি। এটাকে খেলার অংশ হিসেবেই দেখছেন রোনালদো, ‘নয়্যার দারুণ খেলেছে। সে কিছু সেভ করেছে। কখনো আমরা গোল করব, কখনো পারব না। যদি নয়্যারের এমন দিন না যেত তাহলে সম্ভবত আরো কিছু গোল পেতাম আমরা।’

